চকরিয়ায় আমজাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভেঙ্গে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম, নবম শ্রেনীর ৯৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে গণিতে পাশ করেছে মাত্র ২৫জন

chakaria pic (1) 12-01-2019 (1)

চকরিয়া অফিস:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিকলঘাটা আমজাদিয়া রফিকুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার শিক্ষাকার্যক্রম মারাতœকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। ২০১৯ সালের বার্ষিক পরীক্ষায় নবম শ্রেণীর বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার ৯৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে গণিত বিষয়ে পাশ করেছে মাত্র ২৫জন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের এহেন ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানের (অধ্যক্ষ) গাফেলতি ও সঠিক মনিটরিংকে দায়ী করেছেন অনেক অভিভাবক। গণিত বিষয়ে ফেল করা অনেক শিক্ষার্থী খাতা পুন:মূল্যায়নের জন্য অধ্যক্ষের কাছে আবেদনের পাশাপাশি ৫০টাকা করে ফি জমা দিলেও বিষয়টি নিয়ে কালক্ষেপন করায় শিক্ষার্থীদের মাঝেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। আবার গণিত বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দশম শ্রেণীতে ভর্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৭শত টাকা করে আদায় করা হলেও তার কোন রশিদ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দিচ্ছেননা বলে জানিয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী।
জানা যায়, আমজাদিয়া রফিকুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা চকরিয়া উপজেলার ছিকলঘাট ইউনিয়নে ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে অত্যন্ত সুনাম সাথে জেলাব্যাপী বিস্তৃতি লাভ করলেও বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাকার্যক্রম মারাতœকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, শিক্ষকদের পাঠ দানে অনিহা এবং মাদ্রাসা অধ্যক্ষের সঠিক মনিটরিং এবং গাফেলতির কারনেই ঔতিহ্যবাহি এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এ বেহাল দশা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকার লোকজন। এছাড়া সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মাদ্রাসা খোলা রেখে শ্রেণী কক্ষে পাঠদানের নিয়ম থাকলেও তা মানছেনা অধ্যক্ষ, প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা। সারা বছরই সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মাদ্রাসা খোলা রেখে শ্রেণী কক্ষে পাঠ কার্যক্রম চালানো হলেও অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মচারী হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন ১০টায় আগমন ও বিকাল ৪টায় প্রস্তান দেখিয়ে। ফলে বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের শুভঙ্করের ফাঁকি দিচ্ছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক শিক্ষার্থী বলেন, সারা বছরজুড়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর ফলে (বিশেষ করে শীতকালে) সকাল ৯টার মধ্যে অনেক শিক্ষক মাদ্রাসায় উপস্থিত হতে পারেননা। ফলে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারনে অনেক শ্রেণীতে পাঠদান কার্যক্রম বাদ পড়ে যায়। বিশেষ করে নবম শ্রেণী ও দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক ও ক্লাসসমুহ সারা বছরই ঠিকভাবে হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্য়য়ের আশংকায় তাদের লেখাপড়া পুষিয়ে নেয়ার জন্য বাইরের শিক্ষকদের কাছে ধর্ণা দেয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাদ্রাসায় ঠিকমতো পাঠদান কার্যক্রম না চলায় অবসর সময়ে বাইরের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট ও কোচিং করার কারনে মাদ্রাসার অনেক শিক্ষক বিষয়টিকে ভাল চোখে দেখেননা। ফলে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে খাতায় লিখা হলেও ক্ষোভের বশিভূত হয়ে ওই শিক্ষার্থীদের ফেল করিয়ে দেন শিক্ষকরা।
২০১৯ সালের বার্ষিক পরীক্ষায় নবম শ্রেণীর বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার ৯৩ শিক্ষার্থী গণিত বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও পাশ করেছে মাত্র ২৫জন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের এহেন ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানের (অধ্যক্ষ) গাফেলতি ও সঠিক মনিটরিংকে দায়ী করেছেন অনেক অভিভাবক। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গণিত বিষয়ে ফেল করা অনেক শিক্ষার্থী খাতা পুন:মূল্যায়নের জন্য অধ্যক্ষের কাছে আবেদনের পাশাপাশি ৫০টাকা করে ফি জমা দিলেও বিষয়টি নিয়ে কালক্ষেপন করায় এসব শিক্ষার্থীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। আবার গণিত বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দশম শ্রেণীতে ভর্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৭শত টাকা করে আদায় করা হলেও তার কোন রশিদ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দিচ্ছেননা বলে জানিয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী।
এ ব্যাপারে আমজাদিয়া রফিকুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মো. ইলিয়াছ বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন ধরনের অনিয়ম হচ্ছেনা। নবম শ্রেনীতে গণিত বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দশম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার সময় ৭শত টাকায় নেয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। মুলত: তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩শত টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। তবে রশিদ না দেয়ার বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান তিনি।

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।