Skip to content

সর্বশেষ শিরোনাম
চকরিয়া গ্রামার স্কুলের ছাত্র সামী গোল্ডেন বৃত্তি পেয়েছেচকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ সম্পন্নচকরিয়ায় জমি ক্রয় বিজ্ঞপ্তিচকরিয়ায় প্রতিবন্ধী সরওয়ার আলমের জমি দখলে নিতে ভাড়াটিয়ার অভিনব প্রতারণা,চকরিয়ায় বসতবাড়ি ও ক্ষড়ের গাধায় আগুন প্রাণে হত্যার চেষ্টা, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটনোটারী পাবলিক মূলে পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণচকরিয়ায় সীমানা বিরোধে জুমার নামাজের সময় একই পরিবারের ৩জনকে কুপিয়ে জখমপিলখানা হত্যাযজ্ঞে নিহত চকরিয়ার কৃতি সন্তান শহীদ লেঃ কর্ণেল আইয়ুব কাইছারের ১১তম শাহাদাত বার্ষিকীচকরিয়ায় চাল বোঝাই কভার্ডভ্যান উল্টে আহত ২চকরিয়ার কাকারায় প্রতারক চক্রের জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় ভূক্তভোগীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মামলার প্রস্তুতি

চকরিয়ার ছাইরাখালী ভরাচরে মসজিদ ও মাদরাসা নির্মাণে ভূমিদস্যুদের বাধা, মামলা দিয়ে হয়রাণী ও লুটপাটের অভিযোগ

[post-views]

fasiakhali pic 8-2-20,

চকরিয়া অফিস:
চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ছাইরাখালী ভরাচর গ্রামে একটি নতুন মসজিদ ও মাদরাসা নির্মাণে ভূমিদস্যুদের বাধা, মামলা দিয়ে হয়রাণী ও বসতবাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ৮ ফেব্রুয়ারী বেলা ২টায় সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। ভূক্তভোগীরা প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ ও কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে ভূক্তভোগী পরিবারের ফজল করিমের পুত্র মো: দেলোয়ার, জামাল উদ্দিন, মোক্তার করিম, জাফর বৈদ্যের পুত্র বেলাল উদ্দিন, জালাল হেডম্যানের পুত্র কামাল উদ্দিন, মো: হোছনের পুত্র আবদুর রশিদ ও দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী খালেদা বেগমসহ অসংখ্য পরিবার অভিযোগ করে জানান, তারা বিগত ৩০/৪০ বছর ধরে ভূমিহীন ৭৪টি পরিবার রিংভং মৌজার আরএস দাগ নং ২০৯ ও ২১৩ এর ছাইরাখালী ভরাচর গ্রামে জমি আবাদ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখলে রয়েছে। দিনদিন এসব পরিবারের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় ও বিভিন্ন এলাকার দানবীর মানুষের সহায়তায় দ্বীন-ইসলামের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন, ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান ও নিয়মিত নামাজ আদায়ের জন্য একটি নতুন মসজিদ ও মাদরাসা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু মসজিদ-নির্মাণে বাধা হয়ে দাঁড়ায় কতিপয় ভূমিদস্যু মহলের। মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণের মাঝে ভরাচরের ১০টি পরিবারের কাছ থেকে একটি সন্ত্রাসী চক্র অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রতি পরিবারে ২ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। দাবীকৃত চাঁদা না দেয়ায় ছাইরাখালী ও হাসেরদীঘি দিয়ে যাতায়াতের সময়ে প্রাণ নাশের চেষ্টাসহ মামলার হুমকি দেওয়া হয়। এনিয়ে তাদের পক্ষের জামাল উদ্দিনের স্ত্রী মোহছেনা বেগম বাদী হয়ে চলতি ৬ ফেব্রুয়ারী’২০ইং চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী অভিযোগে সিআর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে; রুহুল আমিন, শাহ আলম, শহিদ উল্লাহ, বেলাল, সাইফুল, মিজান, কছির, রশিদ আহমদ ও শামশু মেম্বারকে। অভিযোগে তাদের কাছ থেকে গত ২ ফেব্রুয়ারী রাতে  টাকা চাঁদা দাবী, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সেচের ডীপ টিউবওয়েল এর পাম্প মিশিন ও বসতবাড়ির উঠান থেকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের ১০ টি মেহগনি গাছ লুট এবং চাষাবাদী জমির ৫০ হাজার টাকা মূল্যের সবজি ক্ষেত নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ করেন। একইদিন চকরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভূক্তভোগীরা। তাতে ৬ ফেব্রুয়ারী রাত ১২টার দিকে বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা দেখানো হয়েছে। ইতিমধ্যে মসজিদ ও মাদরাসা নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা চকরিয়া-পেকুয়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলমের কাছে জান এবং অভিযুক্তদের বিষয়ে বর্ণনা দেন। এসময় তিনি যেকোন মূল্যে মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ করা হবে জানিয়ে দিয়ে মসজিদের জন্য ১ লাখ টাকা অনুদানও ঘোষণা করেন। একইভাবে বিষয়টি চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: হাবিবুর রহমানকে অভিযোগ সহকারে অবহিত করলে তিনি পুলিশ টীম নিয়ে সরে জমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে বৈধ প্রন্থায় আল্লাহর পবিত্র ঘর মসজিদ নির্মাণ কাজে প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, উক্ত মসজিদ-মাদরাসা নির্মানে বাধা দেন স্থানীয় প্রভাবশালী রশিদ আহমদ চৌধুরী ও শামসুল আলমের মেম্বারের নেতৃত্বে উক্ত একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এমনকি এলাকার নিরীহ লোকজনের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন রেখে ভুল বুঝিয়ে একের পর এক মিথ্যা ও হয়রাণী মূলক মামলা দিয়ে যাচ্ছে। ফলে এলাকার নিরীহ লোকজন ঘর ছাড়া হয়ে পড়েছে। ইতিপূর্বে আদালতে ও থানায় অংখ্য মামলা দায়েরের পরও গত ৪ ফেব্রুয়ারী’২০ইং ছাইরাখালীর ইয়াকুব আলীর পুত্র রুহুল আলমকে বাদী সাজিয়ে চকরিয়া থানায় একটি জিআর মামলা ০৪/২০ইং দায়ের করেন। এতে আসামী করা হয়েছে মসজিদের পক্ষে এলাকার প্রতিবাদী জামাল উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, নজরুল ইসলাম ও দেলোয়ার হোসেনকে। ওই মামলায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। একইভাবে জনৈক নুরুল আলমের স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে বাদী সাজিয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত,চকরিয়া একটি মিথ্যা ও হয়রাণী মূলক সিআর মামলা নং ১৩৯২/১৯ দায়ের করা হয়েছে। তাতেও কামাল উদ্দিন ও জামাল উদ্দিনকে আসামী করা হয়েছে। ইতিপূর্বে একাধিক বিজ্ঞ আদালতে মসজিদ-মাদরাসা পক্ষের ভূক্তভোগী পরিবারের পক্ষে রায়-ডিক্রি পেয়েছেন। এরপরও অভিযুক্ত দখলবাজরা তাদের জমি জবর দখল ও মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণে বাধা দিচ্ছেন। সর্বশেষ ৮ ফেব্রুয়ারী ভোর রাতে অস্ত্রের মুখে একটি ৯০ হাজার টাকা মূল্যের বড় ষাড় ও ১৬ হাজার টাকা মূল্যের পানির পাম্প মিশিন লুট করে নিয়ে যায়। এনিয়ে এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূক্তভোগী পরিবার বিজ্ঞ আদালত, মাননীয় সংসদসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে জমি জবর দখল চেষ্টা ও মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণের বাধা দেয়ার ঘটনা অস্বীকার করেন রশিদ আহমদ চৌধুরী ও শামসুল আলম মেম্বার। তারা জানিয়েছেন, তাদের নিজ দায়িত্বে নিজস্ব অর্থায়নে একাধিক স্থানে মসজিদ-মাদরাসা ও স্কুল নির্মাণ করেছেন।

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।

Scroll To Top