চকরিয়ায় আদালতের নির্দেশ ও পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে সন্ত্রাসী কায়দায় জমি জবর দখলের অভিযোগ

CHAKARIA PIC 19-3-20

চকরিয়া অফিস:
চকরিয়া পৌর এলাকায় আদালতের নির্দেশনা ও পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে একটি ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে জমি জবর দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে ভূক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। চকরিয়া পৌরসভা ৭নং ওয়ার্ডের পালাকাটা গ্রামে ঘটেছে জবর দখলের এ ঘটনা। এনিয়ে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত,কক্সবাজারে এমআর মামলা (নং ১২৮৯/১৯ইং) চলমান রয়েছে। মামলা দায়ের করেন ওই এলাকার মৃত আজিজুর রহমানের পুত্র নুরুল ইসলাম গং। এতে বিবাদী করা হয়েছে; একই এলাকার মৃত আনোয়ার হোসেনের পুত্র আবুল কালাম, এহছান ও একে খান, মৃত এজাহার হোসেনের পুত্র এনামুল হক, মৃত বদিয়ার রহমানের পুত্র কামাল হোসেন, মৃত গোলাম হোসেনের পুত্র নুরুল আমিন, আবুল কাসেম মাষ্টারের পুত্র ফরিদুল আলম, মৃত আলী আহমদের পুত্র মামুনুর রশিদ, মৃত ছৈয়দ আহমদের পুত্র রশিদ আহমদ, আবু তাহের সওদাগরের পুত্র মো: খলিলুর রহমান, মৃত মোস্তাক আহমদের পুত্র শামসুল আলম, আবদুল মতলবের পুত্র আবদুর রশিদ,রশিদ আহমদের পুত্র মো: আলমগীর, জসিম উদ্দিনের পুত্র রুবেল উদ্দিন, আক্তার আহমদের পুত্র মো: রেজাউল করিম ও মৃত আবুল কাসেমের পুত্র আবদু ছালামসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২জনকে।
প্রাপ্ত অভিযোগে বাদীর আর্জিতে জানিয়েছেন, চকরিয়ার পালাকাটা মৌজার বিএস খতিয়ান নং ৫৬, ৬১, ৫৪৭, ৫৪৮, বিএস দাগ নং ১১, ১২, ১৫,২০,২১, ২২ ও ২৩ এর মোট ২.৫২৯৫ একর জমির বৈধ মালিক হন বাদী পক্ষ। তন্মধ্যে বাদীর পক্ষের পিতা আজিজুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন, কামাল হোসেন, এজাহার হোসেন, ছবুরা খাতুন প্রকাশ ছফুরা খাতুনের রায়তী স্বত্ত্বদখলীয় জমি ছিল। তৎনামে বাংলাদেশ জরিপে চুড়ান্ত লিপি ও প্রচারও রয়েছে। বিএস রেকর্ডিয় মালিক আনোয়ার হোসেন, কামাল হোসেন ও এজাহার হোসেন গত ১২মার্চ ১৯৭৬ইং তারিখে ১০৩২নং কবলা দলিল মূলে ০.১০ একর, ৮মে’১৯৭৬ইং তারিখের রেজি:যুক্ত ১৬৪৭নং কবলা দলিল মূলে ০.১০একর, আনোয়ার হোসেন গত ১০ আগষ্ট ১৯৮২ ইং তারিখের রেজি:যুক্ত ৩৪৯৭নং কবলা দলিল মূলে ০.০৬৬৭ একর, এজাহার হোসেন ও ছবুরা খাতুন প্রকাশ ছফুরা খাতুন গত ৩১ ডিসেম্বর’১৯৭৬ ইং তারিখের ৪০২৮ নং কবলা দলিল মূলে ০.১৬৬৭ একর, ছবুরা খাতুন প্রকাশ ছফুরা খাতুন গত ২৮ জুন’১৯৭২ইং তারিখের ১৪৫৬নং কবলা দলিল মূলে ০.০৫ একর, এজাহার হোসেন ও কামাল হোসেন গত ১৮মার্চ ১৯৭৮ইং তারিখের রেজি:যুক্ত ৪১০নং কবলা দলিল মূলে ০.২০একর এবং কামাল হোসেন গত ২৯নভেম্বর ১৯৭৫ইং তারিখের রেজি:যুক্ত ৪৫৩০ নং কবলা দলিল মূলে ০.১৫ একরসহ মোট ০.৬৮৩৪ একর জমি বাদী পক্ষের আজিজুর রহমানকে বিক্রি করে দখল বুঝিয়ে দেন। বিএস রায়ত আজিজুর রহমান পক্ষের পিতার নিজ রেকর্ডিয় মূলে ১.৮৪৬১ একর এবং খরিদ সূত্রে ০.৬৮৩৪ একরসহ সর্বমোট ২.৫২৯৫ একর জমিতে দখলস্বত্ত্ব থাকাবস্থায় মৃত্যু বরণ করিলে, তৎস্বত্ত্ব প্রথম পক্ষ বাদী ও প্রথম পক্ষের অপরাপর ভ্রাতাভগ্নিগন এজমালে প্রাপ্ত হইয়া নাল ও বসতবাড়ি উপলক্ষে সরেজমিনে স্বত্ত্বদখলে রয়েছেন। বিএস রায়ত আনোয়ার হোসেন গত ১২ আগষ্ট ১৯৮৪ইং তারিখের ৩৩৩২ নং কবলা মূলে ০.০৬৬৭ একর জমি বাদী পক্ষেল ভ্রাতা নুরুচ্ছফা ও নুরুল আমিনকে বিক্রি করে দিয়ে জমি হইতে চিরতরে নিঃস্বত্ত্ববান হন। ইতিপূর্ণে জমি জবর দখলের চেষ্টা করিলে গত ২০ জুন’১৯ইং পুলিশ সুপারের কার্যালয়,কক্সবাজার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পরবর্তীতে গত ২৫ নভেম্বর’১৯ইং সকাল ৭টার দিকে পূণরায় জমি জবর দখলের চেষ্টাসহ নাল জমিতে বসতভীটা ও ধানের চাষের চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা। এমনকি জমি দখল প্রক্রিয়া থেকে সরে আসতে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জমি মালিকদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা অন্যায়ভাবে চাঁদা দাবী করেন। একইভাবে গত ৫ ডিসেম্বর’১৯ইং সকাল ৮টার দিকে অভিযুক্ত ভাড়াটিয়া আরো ১০/১২জনের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ফের জবর দখলের চেষ্টা চালায়। জমিতে শান্তিশৃংখলা ভঙ্গের আশংখায় গত ৯ডিসেম্বর’১৯ইং বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত,কক্সবাজারে এমআর মামলা (নং ১২৮৯/১৯ইং) করেন মৃত আজিজুর রহমানের পুত্র নুরুল ইসলাম। মামলা আমলে নিয়ে চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে সরে জমিনে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার এবং চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জকে আইনশৃংখলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এর প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষতে থানা পুলিশ শান্তিশৃংখলা রক্ষার ও জবর দখল থেকে বিরাত থাকার নির্দেশনা দেন। কিন্তু তা উপেক্ষা করে জবর দখল চেষ্টা অব্যাহত রাখায় এবং তদন্ত প্রতিবেদনও না পৌছায় বাদী পক্ষ চলতি ৪মার্চ’২০ইং বিজ্ঞ আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পূণরায় আবেদন করেন। ওই আবেদনটিও আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় আইনগত প্রদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন বিজ্ঞ আদালত। ক্ষতিগ্রস্ত ও ভূক্তভোগী পরিবারের প্রশাসনসহ বিজ্ঞ আদালতের কাছে আইনী বিচার প্রার্থনা করেছেন।

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।