কুতুবদিয়ায় হামলার শিকার অাইনজীবিকে উল্টো মামলার অাসামী করার হুমকি দিলেন ওসি’র

received_627568897795245

নিজস্ব প্রতিনিধি

কুতুবদিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে করোনা সংক্রামক প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে নিয়োজিত সন্ত্রাসী হামলার শিকার জাহেদুল ইসলাম নামের এক শিক্ষানবিস অাইনজীবিকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করলে উল্টো দুইটি মামলায় অাসামী করার হমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে কুতুবদিয়া থানার ওসি দিদারুল ফেরদৌসের বিরুদ্ধে।
এনিয়ে ভূক্তভোগী অাইনজীবি ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানিয়েছেন কুতুবদিয়ার সচেতন মহল।

কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার জাহেদুল ইসলাম চট্টগ্রাম জজ কোর্টের একজন শিক্ষানবিশ অাইনজীবি। লকডাউনের কারণে জাহেদুল ইসলাম নিজ গ্রামের বাড়ি কুতুবদিয়ায় অবস্থান করছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল হক মীর এর অাহবানে সাড়া দিয়ে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করে অাসছিলেন জাহেদুল ইসলাম। করোনা সংক্রামক প্রতিরোধে লেমশীখালী ইউনিয়নের সমন্বয়ক ও ধূরং বাজারে দায়িত্ব পালন করতেন তিনি। কুতুবদিয়ার ইউএনওর নির্দেশমত তিনি একজন নিয়মিতভাবে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করে অাসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ২৩ এপ্রিল ২০২০ তারিখ ধূরং বাজারে দায়িত্বরত অবস্থায় দুপুর ২ টায় হঠাৎ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন।

ঘটনার বিবরণে ভিকটিম ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ধূরং বাজারের মুদির দোকানদার শাহাজাহানের দোকানের বাহিরেচেয়ারে বসা অবস্থায় লেমশীখালী কাজি পাড়ার গোলাম কুদ্দুসের পুত্র ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্ব ৬/৭ জন সন্ত্রাসী হঠাৎ হামলা চালায় স্বেচ্ছাসেবক জাহেদুল ইসলামের উপর। সন্ত্রাসীদের প্রত্যেকের হাতে লোহার রড ছিল। তারা জাহেদুল ইসলামকে প্রথমে বুকে জোরে লাতি মেরে ফেলে দেয়। এর পর লোহার রড দিয়ে সারা শরীরে অাঘাত করতে থাকে। হামলায় জাহেদের সারা শরীরে জখম হয়। সন্ত্রাসীরা এক পর্যায়ে লোহার রড দিয়ে মাথায় অাঘাত করে। এতে মাথায় গুরুতর অাঘাত পেয়ে রক্তাক্ত জখম হয়। এক পর্যায়ে বেহুশ পড়লে সন্ত্রাসীরা তার হাতে থাকা একটি এনড্রয়েট মোবাইল ফোন ও পকেটে থাকা নগদ ৫ হাজার টাকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। দোকানদার শাহাজান ও তার স্ত্রী, সথানীয় ইমরান, হারেজ, মিনার এরা এগিয়ে এসে জাহেদকে উদ্ধার করেন এবং ঘটনা সম্পর্কে ইউএনও জিয়াউল হক মীর ও সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল চৌধুরীকে মোবাইলে অবগত করেন। তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জাহেদকে দ্রুত কুতুবদিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা করান।
জাহেদুল ইসলাম জানান, ” অামি সরকারী দায়িত্ব পালন কালে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হই । চিকিৎসা নিয়ে কুতুবদিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করতে যাই। অামি কুতুবদিয়া থানার ওসি দিদারুল ফেরদৌস সাহেবকে লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে ওসি সাহেব অামাকে ঘটনার বিষয়ে মামলা না করার জন্য বলেন, মামলা করলে উল্টো অামাকে অারো দুইটা মামলায় অাসামী করা হবে বলে হুমকি দেন। মামলা না করলে অামার মোবাইল ও টাকা উদ্ধার করে দেয়া হবে অন্যতায় অারো দুই মামলায় অাসামী করার হুমকি দেন। পিতা মাতার সাথে পরামর্শ করে অামাকে জানাতে বলেন। অামি ওসি সাহেবের কথায় অবাক হয়ে বাড়িতে চলে অাসি বলে এ প্রতিনিধিকে জানান।
ওসি দিদারুল ফেরদৌস এবিষয়ে বলেন, একটি অভিযোগ পত্র পেয়েছি। তাকে হুমকি দেয়া হয়নি তবে মামলার বিষয়ে পরিবারের সাথে পরামর্শ করতে বলেছি।
এ দিকে সন্ত্রাসী হামলার শিকার জাহেদুল ইসলাম ও তার পরিবারের নিরাপত্তা ও ঘটনার সঠিক তদন্ত চেয়েছেন কুতুবদিয়ার সচেতন মহল ও চট্টগ্রাম অাইনজীবি পরিষদের নেতৃবন্দরা।

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।