চকরিয়ায় পুলিশকে মামলার স্বাক্ষী দেয়ায় ইমাম ও তার-সন্তানকে মারধর

IMG_20200528_233944

চকরিয়া অফিস:
করিয়ার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের জমিদারপাড়া (মৌলভী বাড়ি) এলাকার স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা শেকাব উদ্দিন (৪৫) এর উপর মামুর হোসাইন প্রকাশ মামুইজ্জা ডাকাতের নেতৃত্বে কয়েক দফায় সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার স্ত্রী ও ১০ বছর বয়সী শিশু সন্তানকেও মারধর করা হয়েছে। মাওলানা শেকাব উদ্দিন স্থানীয় ইয়াহিয়া খানের পুত্র। গত ২৬ মে বিকাল ৪টার দিকে ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের জমিদারপাড়া মৌলভী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগে জানাগেছে, গত ২২ফেব্রুয়ারী সন্ত্রাসী মামুর তার আপন বড় ভাই চকরিয়ার সাহারবিল রামপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এরফানুল কবির ও বোনদের উপর পারিবারিক বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করার জন্য সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলায় তার বড় ভাই ও বোন আঘাত প্রাপ্ত হয়। এনিয়ে মৃত মৌলানা আহমদ হোসেনের পুত্র আপন বড় ভাই এরফানুল কবির বাদী হয়ে ছোট ভাই সন্ত্রাসী মামুর হোসাইনসহ অপরাপর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন (নং জি/আর ৩০/৬৪-২০২০)।
ওই মামলায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রতিবেশী হিসেবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মসজিদের ইমাম মওলানা শেকাব উদ্দিনদে স্বাক্ষী রাখেন এবং গত ২২ মে পুলিশ মামলার তদন্তে আসলে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে তিনি স্বাক্ষী দেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত আসামী সন্ত্রাসী মামুর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে অনেকদিন জেল খাটার পর সম্প্রতি জামিন মুক্তি পান। সর্বশেষ মামলার বাদীর পক্ষে স্বাক্ষী দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসী মামুর হোছাইন ওরফে মামুইজ্জার নেতৃত্বে নিরীহ স্বাক্ষী স্থানীয় ইয়াহিয়া খানের পুত্র ও মসজিদের ইমাম মাওলানা শেকাব উদ্দিনকে প্রাণে হত্যার চেষ্টায় প্রথমে গত ২২মে পুলিশ তদন্ত করে চলে যাওয়ার পর হামলা চালিয়ে মাথা ফেটে দেয় এবং কোন রকম পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। সর্বশেষ গত ২৬ মে বিকাল ৪টায় আছরের নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার পথে পূণরায় ধারলো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে স্ত্রী উম্মে জয়নাব (৩০) ও শিশু সন্তান মুজাহিদুল ইসলাম লাবিব (১০)কেও মারধরে আহত করে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে বাড়িতে ঢুকিয়ে রাখে।সেখানে (বাড়িতে) ঢুকে ফের হামলা চালানোর প্রস্তুতি চালালে স্থানীয়রা পুলিশের ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করলে খবর পেয়ে থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে বদরখালী পুলিশ ফাঁড়ির একটি টীম ও স্থানীয় দুইজন ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে রাত ৮টার দিকে তাদেরকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এনিয়ে হামলার শিকার পরিবার বাদী হয়ে পরদিন ২৭ মে থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, হামলার শিকার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগটি পেয়েছেন। পূর্বের মামলাসহ নতুন হরে দেয়া অভিযোগটিও মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।এর প্রেক্ষিতে অাসামী মামুরসহ অপরাপর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।