কৈয়ারবিলের সেই ২৭ পরিবারের পাশে উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদী, খাদ্য সামগ্রী ও টাকা বিতরণ

received_541565253148742

চকরিয়া অফিস

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আলহাজ ফজলুল করিম সাঈদী। সেই কারণে চিকিৎসকের নির্দেশে ১৪ দিন সরকারি বাসভবনে হোম আইসোলেশনে ছিলেন তিনি। সেখানে থাকাবস্থায় গত ১৪ মে ভোররাতে ভুমিদুস্য সন্ত্রাসীদের আগুন তান্ডবে বাস্তভিটা হারান চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খিলছাদক ভাঙ্গারচর এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্টির ২৭টি পরিবার। একই সঙ্গে আগুন পুড়ে নিহত হন এক নারী।
সেইসময় আগুন সন্ত্রাসের শিকার এসব পরিবারের পাশে থাকার ইচ্ছে থাকলেও করোনা সংক্রমনের কারণে আইসোলেশন থেকে বের হতে পারেনি উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদী। অবশ্য ঈদের দুইদিন আগে তিনি আইসোলেশন থেকে বের হলেও সেইসময় শাররীকভাবে পুরোপুরি সন্দিহান ছিলেন।
তাই ঈদের পরে সর্বশেষ রবিবার ৩১ মে কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খিলছাদক ভাঙ্গারচর এলাকায় পুড়ে যাওয়া সেই ২৭টি ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় পরিবারকে দেখতে যান চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ফজলুল করিম সাঈদী। ওইসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিটি পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের পাশে থেকে নারকীয় তান্ডবের ঘটনায় অভিযুক্ত ভুমিদুস্য সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনী শাস্তি নিশ্চিতে সর্বাত্বক সহযোগিতার আশ^াস দেন উপজেলা চেয়ারম্যান। পরে ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিটি পরিবারের মাঝে ব্যক্তিগত তহবিলের অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী চাউল ও নগদ টাকা বিতরণ করেন তিনি।
খাদ্য সামগ্রী ও নগদ টাকা বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন কৈয়াবিল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি জাফর আলম সিকদার, চকরিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শওকত হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ, সামসুল আলমসহ আরও অনেকে।
এদিন চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদীর হাতে থেকে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা পেয়েছেন আগুন সন্ত্রাসের শিকার খিলছাদক ডাঙ্গারচর এলাকার নুরুল হোসাইনের ছেলে কৃষক মোহাম্মদ ইসমাইল, মোক্তার আহামদের ছেলে নুরুল হোসাইন, মোজাহের আহামদের ছেলে আনোয়ার হোসাইন ও মোহাম্মদ ফোরকান, আহামদ হোসেনের ছেলে মোজাহের আহমদ, মোজাহের আহামদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, মৃহ আহামদ হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল হক ও মো. জাহেদ, আবুল হোসেনের ছেলে নাসির উদ্দিন, জসিম উদ্দিন ও জমির উদ্দিন, মকবুল আলীর পুত্র আবু তাহের, আবু তৈয়বের ছেলে শাহ আলম, সাহাব উদ্দিন,সালাহ উদ্দিন ও নেজাম উদ্দিন, আবু তাহেরের ছেলে আবু ছালেক ও বশির আহমদ, মৌলভী আব্দুল্লাহর ছেলে মো. মোস্তফা, আবুল হোসেনের ছেলে জয়নাল আবেদীন, এজাহার আহামদের ছেলে নবী হোসাইন, আবুল কাশেমের ছেলে আবু হানিফ ও আলী আকবরের পরিবার।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মে ভোররাতে মাতামুহুরি নদীর তীরে জেগে উঠা চর দখলে নিতে চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খিলছাদক ডাঙ্গারচর এলাকায় ভূমিদস্যু সন্ত্রাসীরা বসবাসরত মানুষের বসতবাড়িতে আগুন দেয়। এতে ২৭ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে হয়। একই সময়ে আগুনে পুড়ে মারা যায় মনোয়ারা বেগম (৫০) নামে এক নারী। তিনি ওই এলাকার মোজাহের আহামদের স্ত্রী।
ঘটনার সময় চারঘন্টা ব্যাপী ব্যাপক লুটপাট চালিয়ে ভুমিদুস্য সন্ত্রাসীরা ২৭টি পরিবারের দেড় হাজার মণ ধান, কয়েক’শ মণ মরিচ, আলু ও শিমের বিচি, ৫০ মণ মতো চাল, ৩৫/৪০টির মতো গবাদিপশু, তিনটি মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টেলিভিশন এবং বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্রসহ অন্তত দুই কোটি টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। ##

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।