চিন্তা- চেতনার মধ্যে জং ধরার সুযোগ দেওয়া যাবে না

received_234326817818565

জানা – অজানার ব্যাপারটা একদম আপেক্ষিক। তবে আমার যে জ্ঞানের চরম দীনতা আছে সেটা জানার নাম হচ্ছে জ্ঞান। আর আমি সব জানি, সে কথা বলার অর্থ হলো আমার এখনো সবকিছু অজানা রয়ে গেলো।

বাস্তবিক জ্ঞানের প্রতিযোগিতা হওয়া দরকার। কিন্তু আমাদের ভাগ্যকাশে যে সুযোগ নেই। এখানে জ্ঞান মাপা হয় ভিন্ন কৌশলে। ফলপ্রসূতে একটা প্রবাদ এ দেশের বুকে একেবারে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে সক্ষম হয়েছে । প্রবাদটি হলো এই যে, যে দেশে জ্ঞানীর কদর নেই সে দেশে জ্ঞানী জন্মায় না।

আমাদের চিন্তা শক্তির ব্যাপারটা নিয়ে অনেক দিন ধরে লিখবো – লিখবো বলে লেখা হয়নি । কি লিখব? কাদের নিয়ে লিখব? আমার লেখায় আদৌ কি কারো কিছু যায় আসে? সত্যি তো! বিচিত্র এক জগতে আমরা বাস করছি। এখানে হাঙ্গামা- দাঙ্গামা, নিত্যদিনকার ঘটনা। কেউ কারো কথা শুনছে না । দশজন তরুণ বসে কিভাবে একটা সুন্দর পরিবেশ আগামী প্রজন্মের জন্য বিনির্মাণ করা যায় সেটা নিয়ে কেউ আজকাল আলাপ করে না । তারা আলাপ করে ভিন্ন প্রসঙ্গে । এই যেমন ধরুন ; কে কি করলো – রহিমের বাপ করিমকে কখন মারলো – কখন কে কার পেছনে দৌঁড়ালো এই হলো তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু! এতে করে কি লাভ সেটা অনুমান করা দায়। তবে নিশ্চিত করে বলা যায় যে এমন আলোচনা অর্থহীন – ঢের অপ্রাসঙ্গিকও বটে। তাহলে প্রাসঙ্গিক কি? হ্যাঁ, সেসব আলোচনা করবার জন্য লিখতে বসেছি।

আমাদের চিন্তা – চেতনায় আজ ভীষণ পরিবর্তন দরকার । কিভাবে এই পরিবর্তন সম্ভব? এটা বেশ জটিল এক ব্যপার। তবে কারো মধ্যে একবার এই পরিবর্তন আসতে শুরু করলে সেটা আর কখনো বন্ধ হয় না। আমাদের মনে রাখা দরকার, পরিবর্তন একদিন কিংবা দুদিনে আসবে না। পরিবর্তন আসতে সময় লাগে। দুই হাজার সালের দিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার কথা একবার চিন্তা করুন তাহলে দেখবেন আজকের মতন অর্থনৈতিক শক্তি সে সময় ছিল না। তাহলে বিষয়টা কি দাঁড়ায়? দুই দশকের মধ্যে আমাদের মধ্যে বিশাল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে মুক্তি মেলেছে আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশী। আর এ পরিবর্তনের জন্য লাঘব করতে হয়েছে দীর্ঘ সময় । তদ্রূপ মানুষের চিন্তা- চেতনাও একদিনে পরিবর্তন করা যাবে না। এটার জন্য সময় লাগবে। লাগবে শ্রম এবং পরিবর্তনের জন্য সদিচ্ছা।

জগত বিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিসকে কে চিনে না? বিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিস সমাজের সকল স্তরের মানুষের চিন্তা এবং চেতনার পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছিলেন। তিনি তরুণ- যুবকদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন চিন্তা- চেতনায় জং ধরা যাবে না। সুন্দর এবং স্বচ্ছ চিন্তা করতে হবে এবং তদানুসারে কাজ করতে হবে। এতে করে দেখা যায় এক সময় পুরো এলাকা থেকে পুরো দেশে ধীরে ধীরে ব্যাপক পরিবর্তন এসে গেছে। আর এ পরিবর্তন পুরো সমাজ জীবনে ফিরিয়ে দিয়েছিল শান্তি এবং শৃঙ্খলা। এতে ক্ষেপে যায় শোষক শাসকগোষ্ঠী। কারণ তারা মনে করেছিল এভাবে চারিদিকে সুষ্ঠু পরিবর্তন আসতে শুরু করলে নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠী আর তাদের মত করে শাসন করতে পারবে না। যার ভয়ে ভীত হয়ে সক্রেটিসের কণ্ঠ রুদ্ধ করার জন্য তারা তাঁকে রাষ্ট্রদোহী মামলা দায়ের করে এবং সর্বশেষ হেমলক বিষ পান করিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল। এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠে চিন্তা- চেতনার শক্তি ভীষণ প্রবল। এ শক্তির ভয়ে কম্পিত হতে বাধ্য হয় সকল নিপীড়িত শাসক। কিন্তু আমরা তবুও সে পরিবর্তন কেন্দ্রিক কাজে অগ্রসর হচ্ছি না। অথচ এখন সময় এসে গেছে চেতনার শক্তি সকল মানব হৃদয়ে জাগ্রত করার। না হলে জং ধরা চেতনাকে পিষ্ট করে বলীয়ান হয়ে উঠবে সকল অন্যায় – অবিচার – জুলুম এবং এদের নেপথ্যে কাজ করা দোসররা ।

তানভীর মোর্শেদ তামীম ;
তরুণ কলামিস্ট এবং লেখক।

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।