চকরিয়ায় পরকিয়া প্রেমে আসক্ত স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২সন্তানের জননীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ

IMG_20200617_113552

চকরিয়া প্রতিনিধিঃ
চকরিয়ায় পরকিয়া প্রেমে আসক্ত স্কুল শিক্ষক মনজুর আলমের বিরুদ্ধে বিগত দেড় বছর ধরে ২সন্তানের জননীকে অমানবিক নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। চকরিয়া পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ডের পশ্চিমবাটাখালী (তরছঘাট) এলাকায় ঘটেছে এ ঘটনা। সে ওই এলাকার মৃত আবুল কাসেমের পুত্র ও চকরিয়া কেন্দ্রীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক বেতনে সহকারি শিক্ষক। এঘটনায় থানা ও পৌরসভায় অভিযোগ, চকরিয়া আদালত, কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলাও করা হয়।
অভিযোগে ও প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মনজুর আলমের সাথে ২০১১সালে ইসলামী শরীয়াহ মতে ও ৪লাখ টাকা দেন মোহরে বিয়ে হয় পৌরসভা ৬নং ওয়ার্ডের কাহারিয়াঘোনা কমিশনারপাড়া এলাকার মরহুম মোহাম্মদ হোসেনের মেয়ে আসমাউল হোসনা’র। বিয়ের সময় স্ত্রীর পিতৃালয় থেকে একমাত্র মেয়ের সংসার সুখের জন্য উপহার হিসেবে মেয়ের জামাইকে দেয়া হয় ৩ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, পূূর্ণ-ফার্ণিচার সামগ্রী ও নগদ অর্থসহ প্রায় সাড়ে ৩লাখ টাকা। তাদের সংসারে ৮বছর বয়সী ১কন্যা ও ২বছর বয়সী এক পুত্র সন্তানও রয়েছে। সুন্দরভাবে চলে আসছিলো তাদের সংসার। বিগত দেড় বছর পূর্বে স্বামী অন্যত্রে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। ফলে তাদের সুন্দর সংসারে যৌতুক নামক ভাইরাসে স্ত্রীর উপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। এরপরও মেয়ের সংসার সুখের আশায় উক্ত দেড় বছর পূর্বে স্বামীর দাবীকৃত আরো ১লাখ টাকা যৌতুক দেয়া হয়। উক্ত টাকা শেষ হতে না হতে ৩মাস পর আবারো শুরু হয় স্ত্রীর উপর অমানবিক নির্যাতন। নির্যাতন-মারধরের এক পর্যায়ে বিগত ১৫মাস পূর্বে তাকে তাঁড়িয়ে দেয়া হয় শ্বাশুড় বাড়ি থেকে। এরপর থেকে দুই সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করেন স্ত্রী। স্বামীর সংসারে ফেরার আশায় স্ত্রী আশ্রয় নেন জনপ্রতিনিধি ও আইন- আদালতের। কোন সুরহা না মেলায় স্ত্রী আসমাউল হোসনা বাধ্য হয়ে স্বামী মনজুর আলমের বিরুদ্ধে প্রথমে চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ও পরে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। কিন্তু সুচতুর ও কলাকৌশলী স্বামী মনজুর আলম প্রচুর অর্থব্যায় করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে মামলার বাদী স্ত্রীর অগোচরে মামলার দুইটি প্রতিবেদনই তার (স্বামী) পক্ষে ভাগিয়ে নেয়। যার কারণে সংসারে আর আলোর মুখ দেখছেনা। পরবর্তীতে দেনমোহর কম হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিনা ইস্যুতে স্ত্রীর কাছে তালাকনামা পাঠায় স্বামী। কিন্তু স্ত্রী উক্ত তালাক নামার কাগজ গ্রহণ করেনি। এনিয়ে পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী ও প্যানেল মেয়র (স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর) বশিরুল আইয়ুবসহ গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পৌরসভা কার্যালয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠক হয়। কিন্তু সমাধান কিংবা কোন সুরহা হয়নি। বিষয়টি গড়ায় চকরিয়া-পেকুয়া আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম বিএ(অনার্স)এমএ’র কাছে। তিনি মনজুর আলমকে তার স্ত্রী-সন্তানদের ঘরে তোলার জন্য কড়া নির্দেশ দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান ও চকরিয়া কেন্দ্রীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদুল হককে নির্দেশনা সহকারে অনুরোধ করেন। এরপর থানায় ও বিদ্যালয়ে ঘটনার সমাধানকল্পে একাধিকবার বৈঠক হয়। কিন্তু কোন সুরহা আসেনি। বর্তমানে থানায় বৈঠক চলমান থাকাবস্থায় গত ১৮দিন পূর্বে এমপি মহোদয় ও শালিসকারদের নির্দেশে স্ত্রী-সন্তানদের ঘরে তুলেন। কিন্তু উক্ত ১৮দিনে কোন ধরনের যোগাযোগ কিংবা কোন খাবার সরবরাহ না করায় বর্তমানে অসহায় স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে শ্বাশুড় বাড়িতে অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। হতভাগা স্ত্রী আসমাউল হোসনা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও মানবাধিকার নেতাদের মানবিক দৃষ্টিতে জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত স্বামী মনজুর আলম এসব বক্তব্য অস্বীকার করেন এবং স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন বলে দাবী করেন।

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।