চকরিয়ায় প্রেম করে বিয়ের খেসারত, অপারেশন করে সন্তান জন্মের দিন হাসপাতালেই স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা!

received_1006382526498482

চকরিয়া অফিস:
চকরিয়ায় প্রেম করে বিয়ে করার খেসারত দিতে হচ্ছে এক অসহায় যুবতী নারীকে। পালিয়ে বিয়ের দেড় বছর পর হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন করে সন্তান জন্মের দিন থেকে স্ত্রীকে প্রাণে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে পাষন্ড স্বামী। এমনকি হাসপাতালের সামনে ও বাড়ি ফেরার পথে স্ত্রীর পিতাকে প্রকাশ্য দিবালোকে মারধরও করেছে। চকরিয়া সিটি হাসপাতালের সামনে ও সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ২৫জুলাই দুপুর ২টায় সংঘঠিত এ ঘটনায় বর্তমানে মৃত্যুর সাথে কাটরানো ভূক্তভোগী অসহায় স্ত্রীর পক্ষে বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানান।
অভিযোগে জানাগেছে, চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের রামপুর গুরুন্যাকাটা গ্রামে বাদশা মিয়ার মেয়ে হুরে জন্নাত (২০) কে স্কুলে যাওয়ার উত্যাক্ত করতে করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে প্রেম নিবেদনের চেষ্টা চালান পূর্ববড়ভেওলা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ঘাইট্টারচর ফজলুর রহমান সিকদারপাড়া গ্রামের দলিলুর রহমানের পুত্র খাইরুল বশর। এক পর্যায়ে স্কুল ছাত্রী মেয়ে হুরে জন্নাতের জন্য মহেশখালীর মাতারবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিয়ের প্রস্তাতে ঘর আসতে শুরু করলে প্রেমে জড়িয়ে পড়া খাইরুল বশর সুকৌশলে স্কুল ছাত্রী হুরে জন্নাতকে বিগত দেড় বছর পূর্বে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে উঠিয়ে নিয়ে চট্টগ্রাম নিয়ে যায়। সেখানে ১০লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের রেজিষ্ট্রাট কাবিননামা মূলে বিয়েও সম্পন্ন করে। ওই সময় স্কুল পড়ুয়ার মেয়ের বিয়ের জন্য জোগাড় করা গরু বিক্রির নগদ ১লাখ ৬০ হাজার টাকা ও বিদেশ থেকে পাঠানো ৪ভরি স্বর্ণালংকারও সাথে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে পরিবারের সাথে যোগাযোগ শুরু হলে বিগত ৬মাস পূর্বে থেকে চকরিয়া জমজম হাসপাতালের পাশে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন দু’জনে। এরপর গত ১মাস পূর্বে স্ত্রীকে ছেলে বাড়িতে (শ^শুরালয়ে) তুলে স্ত্রীকে। তাকে মেনে নিতে পারছিলেননা শ^াশুরবাড়ির লোকজন। সর্বশেষ গত ৪দিন পূর্বে (চলতি ২১জুলাই) গর্ভবর্তী স্ত্রী হুরে জন্নাত এর প্রসব বেদনা শুরু হলে চকরিয়া সিটি হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সন্তান প্রসবে সিজার (অপারেশন) করতে হবে জানিয়ে দিলে স্বামীর সম্মতিতে সিজার করে একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন। কিন্তু স্বামীর পরিকল্পনা সিজার করার মাধ্যমে কৌশলে স্ত্রীকে হত্যা করা। ২৫জুলাই দুপুর ২টায় রিলিজ (ছাড়পত্র) নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় অজাসিত হস্তক্ষেপ করে শ^াশুর ও সিজার করা স্ত্রীর সাথে ধাক্কা-ধাক্কি, টানা-হেচড়া শুরু করে। এক পর্যায়ে স্বামী খাইরুল বশর স্ত্রীকে পেটে লাথি মেরে ফেলে দেয় এবং শ^াশুর বাদশা মিয়াকে অতর্কিতভাবে শার্টের কলার ধরে মারধর করতে থাকে। ওই সময় হাসপাতালে আগত লোকজন ও স্টাফরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে। পরে তারা বাড়ি ফেরার পথে সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দুপুর ২.৩০ ঘটিকার দিকে ফের হামলা চালালে সড়কে ডিউটিরত থানার উপপরিদর্শক চম্পক বড়ুয়া হামলাকারীদের ধাওয়া দিলে প্রাণে রক্ষা পায় স্ত্রীর পরিবারের লোকজন। এরপর হতভাগা স্ত্রী হুরে জন্নাতের অপারেশন স্থানের অবস্থার অবনতি বিকেলে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। বর্তমানেও লাথির আঘাতের স্থানের অবস্থা আশঙ্খাজনক রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনার বিষয়ে কেউ এখনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।##

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।