চকরিয়া সাফারী পার্কের ৫কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অজ্ঞাত আরো ৫জনের বিরুদ্ধে আদালতে এক ভূক্তভোগীর মামলা

mamla

চকরিয়া অফিস:
চকরিয়ার ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারী পার্কের ৫জন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫জনের বিরুদ্ধে চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা (নং সিআর ৩৮৫/২০) দায়ের করেন কাজী নাছির উদ্দিন নামে এক ভূক্তভোগী। তিনি চকরিয়া পৌরসভা ৭নং ওয়ার্ডের বিনামারা গ্রামের মৃত মোজাফ্ফর আহমদের পুত্র ও চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক। অভিযুক্তরা হলেন; সাফারী পার্ক ফরেষ্ট রেঞ্জার (এফ আর) আবদুল মালেক, সাফারী পার্ক বীট কর্মকর্তা (এএফআর) মাজহারুল ইসলাম, গেইটম্যান খাইরা, গেইটম্যান সাইদুজ্জামান, ওয়াইন্ড স্কাউট তোফাজ্জল হোসেনকে। গত ২০জুলাই’২০ইং ফৌজদারী এ মামলাটি করেন।
মামলার বাদী কাজী নাছির উদ্দিন অভিযোগে জানান, তিনি চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বগাচতর মৌজার আর দাগ নং ১৯২ ও ৩৮৩, বিএস দাগ নং ২৯ ও ১৩৭, জমাবন্দী খতিয়ান নং ৭৭, বিএস খতিয়ান নং ১ ও ২, বন্দোবস্তি মামলা নং ১৩৮/ ১৯৮০-৮১ইং, জমির পরিমাণ ৯৫শতক। উক্ত জমি বন্দোবস্তি পাওয়ার পর থেকে শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে রয়েছে। কিন্তু সাফারী পার্ক কর্তৃপক্ষ কিছু অংশ জমিতে বাধা সৃষ্টি করলে নাছির উদ্দিন বাদী হয়ে চকরিয়া বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে অপর মামলা নং ২১৮/২০০২ দায়ের করেন। উক্ত মামলা ২০০৯সালে দু’তরফা আংশিক ডিক্রি রায় প্রচার করেন। পরে পূর্ণাঙ্গ ডিক্রির জন্য বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অপর আপিল মামলা নং ২৫/২০০৯ মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বন্দোবস্তিপ্রাপ্ত বিএস ২৯নং দাগের খিলা জমিতে নাছির উদ্দিন ও তার ছোট বোন পাকা গৃহ নির্মাণ, ধান ও মৎস্য চাষ, নিজস্ব বেড়িবাধ নির্মাণ, শাসন সংরক্ষণ, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ করে দীর্ঘ ৪০বছর যাবৎ ভোগ দখলে থাকাবস্থায় সাফারী পার্কের প্রায় ৩শত ফুট দিরে উক্ত জমিতে গিয়ে অভিযুক্তরা বাধা প্রদানসহ হামলা ও ভাংচুর চালান। এনিয়ে ইতিপূর্বেও চকরিয়া আদালতে সিআর ১৩৮৫/১৯ দায়ের করেছিলেন। পরে স্থানীয়ভাবে আপোষ মিমাংসা মামলা প্রত্যাহারও করেন। কিন্তু সর্বশেষ গত ২৬মে’২০ইং ফের হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে। এনিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, মাননীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। তা উপেক্ষা করে অভিযুক্তরা পূণরায় বসতঘর ও মৎস্য ঘের এবংচাষাবাদী জমিতে লুটপাট ভাংচুর চালিয়ে প্রায় চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করে। এনিয়ে তিনি (নাছির উদ্দিন) বাদী হয়ে চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলা আমলে নিয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত পূর্বক আদালতে প্রেতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। বাদী কাজী নাছির উদ্দিন ২৫জুলাই রাতে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ জানান, মামলা প্রত্যাহার করে না নিলে তাকে বর্তমানে মিথ্যা বন মামলা দিয়ে নানাভাবে হয়রাণী করার হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছে।
এদিকে সাফারী পার্কের বীট কর্মকর্তা মাজাহারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়। উল্লেখিত দাগাদির জমিতে তাদের সাফারী পার্কের জমি পড়েছে। তাই সাফারী পার্কের জমি দখলে বাধা দেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করতেছে বলে দাবী করেন।##

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।