চকরিয়ার প্রাচীনতম মাইজঘোনা পুরাতন জামে মসজিদ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্খা, মুসল্লীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা

FB_IMG_1596647304790

কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের মাইজঘোনাস্থ শত বছরের প্রাচীণতম পুরতান জামে মসজিদ নিয়ে পরিচালনা কমিটি ও মুসল্লীদের মধ্যে নামাজ পড়া-না পড়া নিয়ে বিরোধ চরমে উঠে। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্খা দেখা দিয়েছে। এদিকে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের পথরোধ করে হামলাসহ বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। গত ৫আগষ্ট বুধবার দুপুর ১টায় স্থানীয় মুসল্লীরা তাদের জীবনের নিরাপত্তা ও মসজিদের স্বার্থ রক্ষার্থে প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

সাধারণ মুসল্লীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে লিখিত বক্তব্যে মো: ইউসুফ রাজা বলেন, ১৯২০ সালে মরহুম আজিমুদ্দিন এলাকার সর্বসাধারণের ইবাদতের সুবিধার্থে মাইজঘোনা পুরতান জামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তারই পুত্র আলহাজ¦ মাওলানা মতিউর রহমান উক্ত মসজিদের মতোয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুর পর তার সুযোগ্য সন্তান ও চকরিয়া সাহারবিল আনোয়ারুল কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আলহাজ¦ মাওলানা মোজাহের আহমদ ১৯৫৭ সাল হইতে ২০১৫সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫৮ বছর ধরে বিনা বেতনে উক্ত মসজিদের মতোয়াল্লীর পাশাপাশি ইমামের দায়িত্ব পালন করেন। তার জীবদ্দশায় তার পুত্র মাওলানা সরওয়ার আলমকে ২০১৬ সালে মতোয়াল্লীর পাশাপাশি ইমাম/খতিবের দায়িত্ব অর্পন করলে অদ্যাবধি তিনি ও বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, অধ্যক্ষ আলহাজ¦ মাওলানা মোজাহের আহমদ জীবদ্দশায় ২০১৭সালে সাহারবিল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাকিমকে সভাপতি করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট মসজিদের একটি উন্নয়ন কমিটি গঠন করেন। উক্ত কমিটির কাছ থেকে সম্প্রতি এলাকার সচেতন মুসল্লীরা মসজিদের আয়-ব্যয় ও উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং মসজিদের ইমাম/মতোয়াল্লীকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করেন। এমনকি মসজিদে জুমার নামাজের খুৎবা প্রদানকালে মিম্বর থেকে নামিয়ে ফেলেন। এনিয়ে এলাকার সাধারণ মুসল্লীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে শান্তিশৃংখলা রক্ষায় থানা পুলিশ পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
পরবর্তীতে এ বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ উভয় পক্ষকে নিয়ে তার কার্যালয়ে তিন দফায় সমঝোতা বৈঠক করে । তিনি বর্তমান খতিব মাওলানা সরওয়ার আলমকে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন এবং উভয় পক্ষকে ধর্মীয় শৃংখলা বজায় রাখার আহবান জানান। কিন্তু তা উপেক্ষা করে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল হাকিমের নেতৃত্বে গত শুক্রবার মসজিদের পাশর্^বর্তী একটি বাড়ির উঠানে প্যান্ডল টাঙ্গিয়ে কিছু সংখ্যক মুসল্লীদের বাধ্য করে আলাদা ভাবে জুমার নামাজ আদায় করে, যাহা ধর্মীয় রীতি-নীতির পরিপন্থি। এমনকি পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজও একইভাবে পড়া হয়।

অভিযোগে আরো বলেন, মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের যাওয়া-আসার পথে পথরোধ করে মারধর করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মুসল্লীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্তকে অমান্য করে মেয়াদত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি আবদুল হাকিম ও তার ছেলে হাসান মো: রেজাউল করিম এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী লোকদের জড়ো করে অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টির মাধ্যমে মসজিদ জবর দখলের মাধ্যমে মতোয়াল্লী ও খতিব মাওলানা সরওয়ার আলমকে বিতাড়িত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।