পেকুয়ায় ২৯ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে চাকুরীরত ইমামকে মসজিদ বিতাড়িত করার চক্রান্ত

received_1075805179481855

পেকুয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় বিগত ২৯ বছর ধরে মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালনকারী সাদা মনের মানুষ খ্যাত এক নিরীহ ইমামকে মসজিদের ইমামের পদ থেকে বিতাড়িত করার জন্য ওই মসজিদের সভাপতির নেতৃত্বে একদল খারাপ প্রকৃতির লোক গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত শুরু করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি পরিকল্পিতভাবে ওই ইমামকে বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়ে গুরুতর জখমও করেছে। ভূক্তভোগী ইমামের নাম হাফেজ মৌলানা আবুল হোছাইন (৫৫)। তিনি পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মিঠাবেপারী পাড়া জামে মসজিদের ইমাম এবং ওই গ্রামের মৃত ফয়েজ আহমদের পুত্র।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধারাবাহিক চক্রান্তের অংশ হিসেবে ওই মসজিদ কমিটির সভাপতি ফরিদুল আলমের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন লোক ধারালো দা-কিরিচ নিয়ে চলতি বছরের ১৭ জুলাই দুপুরে মসজিদের ইমাম হাফেজ আবুল হোছাইন ও তার ছেলে মিনহাজ উদ্দিনকে পিঠিয়ে গুরুতর আহত করে। হামলার পর স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার পেকুয়া সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসাও করিয়েছেন। এ ঘটনায় ইমাম আবুল হোছাইন বাদী হয়ে তার উপর হামলাকারী ৫ জনের বিরুদ্ধে পেকুয়া থানায় একটি এজহার দায়ের করেছেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পেকুয়া থানা পুলিশ সেটি মামলা হিসেবে এখনো রেকর্ড করেনি।
অপরদিকে গত ০৬/০৫/২০১৯ইংরেজী তারিখে মসজিদের ইমাম আবুল হোছাইন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছিলেন।
ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগে ইমাম আবুল হোছাইন উল্লেখ করেছেন, তিনি পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মিঠাবেপারী পাড়াস্থ তৈয়বিয়া ফয়জুল উলুম মাদ্রাসা হেফজখানা ও এতিমখানার প্রতিষ্টাতা হন। তিনি বিগত ১৯৯২ সনে জমি দান করে অর্থ ব্যয় করে মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্টা করেন। সুদীর্ঘ ২৯ বছর ধরে অতিকষ্টে মাদ্রাসা সংলগ্ন স্থানে তৈরীকৃত পাঞ্জেগানায় বিনা বিনাপারিশ্রমিকে ইমামতি করে আসছিলেন। বিগত দুই বছর পূর্বে পাঞ্জেগনাটি জামে মসজিদে রূপান্তর করা হলে তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ান ও জুমার নামাজ পড়ার জন্য একজন খতিব নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু মসজিদ কমিটির সভাপতি ফরিদুল আলম, মিঠাবেপারী পাড়া গ্রামের আহমদ শফির পুত্র শ্রমিক দল নেতা হারুন অর রশিদ, আ্ইয়ুব আলীর পুত্র আবদুল মালেক, মোহাম্মদ হোছাইনের পুত্র কফিল উদ্দিনসহ আরো ৪/৫ জন লোক ইমাম আবুল হোছাইনের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে মসজিদ থেকে বিতাড়িত করবার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু করে। প্রতিনিয়তই ইমামের প্রতি চরম দূর্বাব্যহার শুরু করে। তাদের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গত ০৫/০৫/২০১৯ইংরেজী তারিখ সকাল ১০টার দিকে ইমাম আবুল হোছাইন হেফজখানার ছাত্রদের পাঠদান করা অবস্থায় শ্রমিকদল নেতা হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে ১০/১২ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ইমামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাকে ব্যাপক মারধর করে। এসময় হারুনের নেতৃত্বে লোকজন মাদ্রাসাও ভাংচুর করার পাশাপাশি হেফজখানার ছাত্রদের মারধর করে টেনে হিছড়ে মাদ্রাসা থেকেও বের করে দেয়।
পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মিঠাবেপারী পাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মৌলানা আবুল হোছাইন অভিযোগ করে বলেন, তার বিগত কয়েক বছরে হারুন অর রশিদ ও ফরিদুল আলমের নেতৃত্বে দফায় দফায় হামলা করা হয়েছে। তাদের একটাই উদেশ্যে, আমাকে মসজিদ থেকে বিতাড়িত করা। যে মসজিদে ২৯ বছর ধরে বিনাপারিশ্রমিকে খেদমত করেছি, তারা সেই মহান আল্লাহর ঘর মসজিদ থেকে আমাকে অন্যায়ভাবে বিতাড়িত করতে চায়। আমি এর বিচার মহান আল্লাহকে দিলাম। মসজিদের ইমাম আবুল হোছাইন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।