ফলোআপ: চকরিয়ার আলোচিত গরু চুরির অপবাদে নির্যাতিত সেই মা-দুই মেয়ের জামিন, ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেফতার ৩, ঘটনাস্থলে তদন্ত কমিটি

received_331994354665569

আবদুল মজিদ,চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়ার আলোচিত গরু চুরির অভিযোগে রশি দিয়ে বেঁধে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক মারধরের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত পাঁচজনের মধ্যে মা-মেয়েসহ তিনজনকে জামিন দিয়েছে আদালত। সোমবার সকালে চকরিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার দেব এই জামিন দেন।
জামিন প্রাপ্তরা হলেন- চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুর ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালামের স্ত্রী পারভীন আক্তার, তার মেয়ে সেলিনা আক্তার ও রোজিনা আক্তার।
উল্লেখিত ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে থানা পুলিশ সোমবার বিকালে হারবাংয়ের মাহমুবুর রহমানের পুত্র নজরুল ইসলাম, ইমরান হোসেনের পুত্র জসিম উদ্দিন, জিয়াবুল হকের পুত্র নাছির উদ্দীনকে গ্রেফতার করেছে।
চকরিয়া আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোববার সন্ধ্যায় ঘটনাটি তুলে ধরে চকরিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাজিব কুমার দেবের আদালতে আসামিদের জামিনের জন্য প্রার্থনা করেন অ্যাডভোকেট ইলিয়াছ আরিফের নেতৃত্বে কোর্টের আইনজীবিরা।
এ সময় আদালতের বিজ্ঞ বিচারক রাজিব কুমার দেব আসামিদের আদালতে উপস্থিত করার জন্য নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ ২৪আগষ্ট (সোমবার) সকালে মা পারভীন আক্তার (৪০) স্বামী মৃত: আবুল কালাম, মেয়ে সেলিনা আক্তার সেলি (২৮) ও রোজিনা আক্তার (২৩)কে আদালতে উপস্থিত করেন। এ সময় আদালত মা-মেয়েসহ তিনজনকে জামিন দেন।
অন্যদের দুই জনের জামিন না মনজুর করে জেলহাজতে প্রেরন করেন। তারা হলো- মো. চুট্্রু (২৭) পিতা: দেলোয়ার হোসেন, মো. এমরান (২১) মৃত: আবুল কালাম।
এদিকে, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানিয়েছেন, গরু চোর যেই হোক এ ঘটনায় আইনের ব্যত্যয় হয়েছে। কক্সবাজারের ডিডিএলজি (উপসচিব) শ্রাবস্তি রায়’কে আহবায়ক করে ৩সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত কমিটিকে ৩ কার্য দিবসের মধ্যেই প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উক্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশ এর উপর ভিত্তি করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির অন্য ২ সদস্য হলো-চকরিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হোসেন এবং হারবাং ইউনিয়নের উপজেলা ট্যাগ অফিসার। এছাড়া চকরিয়ার ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজ আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে নিজেই ঘটনার তদন্ত শুরু করে দিয়েছেন।
অপরদিকে, চকরিয়া চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রাজিব কুমার দেব জনস্বার্থে স্বপ্রণোদিত হয়ে হারাবাংয়ের ভাইরাল হওয়া গরু চুরির ঘটনায় একটি মামলা গ্রহণ করেছেন। মামলাটি চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মতিউল ইসলামকে পরবর্তী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত; গত শুক্রবার চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউপিতে গরু চুরির অভিযোগে মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে স্থানীয়রা। পরে তাদের রশি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে সড়কে ঘুরিয়ে স্থানীয় ইউপির চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরানের কাছে নিয়ে আসলে তিনিও দ্বিতীয় দফায় মারধর করেন। এতে তারা অসুস্থ হয়ে যান। পরে পুলিশ খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।