চকরিয়ায় গুলিবিদ্ধ বন্য হাতি উদ্ধার ঘটনায় কারসাজী!

received_4162982993717051

চকরিয়া প্রতিনিধি:
চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী থেকে গুলিবিদ্ধ একটি বন্য হাতি উদ্ধার করেছে বন বিভাগের লোকজন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা জড়িতদের বাদ দিয়ে স্থানীয় ছাত্রনেতা ও নিরীহ লোকদের ফাঁসানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ঘটনায় সরেজমিনে যাচাই করে এমনই অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনা সুত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের খুটাখালী বিটের কালাপাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ৩ টার দিকে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থা থেকে একটি গুলিবিদ্ধ মৃত হাতি উদ্ধার করে বনকর্মীরা। পরদিন মৃত হাতির ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। চিকিৎসক সুত্রে হাতিটির শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে জানা যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লোভের বশিভূত হয়ে বন কর্মকর্তারা স্থানীয় এক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এ মিথ্যাভাবে জড়ানোর ঘটনায় দুষ্কৃতকারী বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়। সেই ছাত্রলীগ নেতার নাম মোঃ নাছির উদ্দিন। সে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক।
এ ব্যাপারে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ শাহাজাহান বলেন, নাছির উদ্দিন আমাদের একজন নিষ্ঠাবান ছাত্রলীগ নেতা। দীর্ঘ সময় ধরে সৎ ও আদর্শের ভেতর দিয়ে তিনি আমাদের সাথে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তাকে ফাঁসাতে যে কারো ইন্ধনে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের লোকজন এ ঘটনার সাথে জড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। ছাত্রলীগ নেতাকে মিথ্যাভাবে ফাঁসানোর চেষ্টায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করা না হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে বাধ্য হবে বলে কঠোর হুশিয়ারী দেন তিনি।
এ ব্যাপারে খুটাখালী বিটের হেডম্যান মোঃ ছৈয়দ জানিয়েছেন, আমাদের লোকজনের মাধ্যমে ঘটনাটি সাজানো হয়েছে। আসল ঘটনার সাথে জড়িত প্রধান ওই এলাকার ছাবের আহমদের ছেলে রহিম উল্লাহ। কিন্তু আসল অপরাধীদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নিরপরাধ নাছিরদের নাম কেন আসছে তার জানা নাই। অপর সুত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ হাতি উদ্ধারের ঘটনাস্থল ধান ক্ষেতের পাহারায় ছিল রহিম উল্লাহ ও একই এলাকার নুর আলমের ছেলে ছৈয়দ আলম।
এ বিষয়ে খুটাখালী বিটের বনকর্মী মোঃ ফয়সাল জানান, আমি এ সম্পর্কে কিছুই বলতে পারব না। বিট অফিসার যেটা বলে সেটাই চুড়ান্ত। এর বাইরে আমি কিছু জানিনা।
এ ব্যাপারে জানতে খুটাখালী বিট কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার যা বলার কাগজে লিখা হয়েছে। এসম্পর্কে আমি মুখে কিছু বলতে পারবোনা আপনি রেঞ্জ অফিসে গিয়ে কাগজ দেখে জেনে নিতে পারেন। উল্লেখ্য অভিযুক্ত এ বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গাছ চোরদের সাথে আঁতাত করে বনাঞ্চলের মাদার ট্রি গর্জনসহ মহামূল্যবান কাঠ বিক্রির অহরহ প্রমান রয়েছে। এ নিয়ে ইতিপূর্বে পত্রপত্রিকায় বিভিন্ন সংবাদও প্রকাশিত হয়।
ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা ছৈয়দ আবু জাকারিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি এ বিষয়ে কোনপ্রকার কাগজপত্র দেখাতে ও বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। ছাত্রলীগ নেতার সেখানে কোন চাষাবাদের জমি নেই, তাকে এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাচাই করে যা পাওয়া গেছে তা। এ নিয়ে মামলা দায়ের করা হচ্ছে পরে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

, বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।