চকরিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে ৩ সন্তানের জননীর আত্মহত্যা

এম মনছুর আলম,চকরয়িা
চকরিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে গলায় ফাঁস দিয়ে তছলিমা বেগম (৩৩) নামের তিন সন্তানের জননী আত্মহত্যা করেছে। গত সোমবার (২১মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম কোনাখালীস্থ লতাবনিয়া পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।রাত ৮টার দিকে খবর পেয়ে চকরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে।নিহত তছলিমা ওই এলাকার মো: নুরুল আমিনের স্ত্রী।কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান নিহত হওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে,নিহত তছলিমা বেগমের স্বামী নুরুল আমিন একজন দিন মজুর হয়। দিনমজুরী কাজ করে কোন রখম সে অভাবের সংসার চালাতো।প্রায় সময় নিহত তছলিমার সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার ঝগড়া হতো।ঘটনার পূর্বের দিন রাত্রেও তার স্বামী বাহির থেকে দিন মজুরী কাজ সেরে এসে স্ত্রী তছলিমার সাথে পারিবারিক বিষয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়।ওই দিন রাতে তাকে বেড়দক মারধর করে আঘাত করেছে তার স্বামী।পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীর সঙ্গে রাগ করে তিনি এ আত্মহত্যা ঘটনাটি করেছে বলেও স্থানীয় এলাকাবাসীর ধারণা।
স্থানীয়রা আরো জানান, সোমবার দুপুরের দিকে তার শিশু সন্তানরা তাদের মাকে(তছলিমা) ঝুলন্ত দেখতে পেয়ে কান্নাকাটি করতে থাকলে পার্শ্ববর্তী এলাকাবাসী ও নিহতের স্বামী তাকে ঝুলন্তবস্থা থেকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে শরনাপন্ন হয়। ওই চিকিৎসক তাকে চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে বলেন। পরে স্থানীয়দের সহয়তায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।হাসপাতাল থেকে ফের নিহত তছলিমার লাশ তার স্বামী বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়।পরে স্থানীয় এলাকাবাসী ঘটনার বিষয়টি কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদারকে অবগত করলে সে দ্রæত থানা পুলিশকে খবর দেয়।ঘটনার খবর পেয়ে কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার(চকরিয়া সার্কেল) কাজী মো: মতিউল ইসলাম ও চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)মো: বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশসহ নিহত লাশের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।মাতামুহুরী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক(এস আই) মংথোয়াই হ্লা চাক ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।
কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার বলেন,সোমবার দুপুরের দিকে মধ্যম কোনাখালী লতাবনিয়া পাড়া এলাকায় এক গৃহবধু আত্মহত্যা করেছে বলে স্থানীয় লোকজন ফোন করে আমাকে জানায়।ঘটনার ব্যাপারটি জানতে পেরে আমি তাৎক্ষনিক ভাবে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করি।পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছেন।
মাতামুহুরী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক(এস আই) মংথোয়াই হ্লা চাক কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,ঘটনার পর থেকে ওই বাড়ির পুরুষ মানুষেরা পালাতক রয়েছে।তার এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়নি।
এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর জানান,কোনাখালী এলাকায় এক গৃহবধু আত্মহত্যা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।এস আই মংথোয়াই হ্লা চাক নিহতের লাশ উদ্ধার করে সুরুতহাল রিপোর্ট তৈরি করার পর লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই তার মূত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে বলে তিনি জানান।

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।