চকরিয়ায় আলোচিত ৪২দিন বয়সি শিশু হত্যা মামলা অবশেষে মিথ্যা প্রমাণিত

chakaria paurashaba pic 24-5-18

ফের আদালতের আদেশ লঙ্গন করে দালান নির্মাণের চেষ্টায় পুলিশের ধাওয়া

চকরিয়ায় ৪২দিন বয়সি শিশু হত্যায় মামলা অবশেষে মিথ্যা প্রমাণিত। বিজ্ঞ আদালতে মামলার বাদীর জবানবন্ধীতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে হত্যা দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে বিরোধীয় জমি জবর দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে মর্মে অবহিত করেন। একইভাবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞার আদেশ উপেক্ষা করে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জমি জবর দখল করে পাকা দালান নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখায় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে দখলবাজদের ধাওয়া করে। তবে তাৎক্ষনিকভাবে কাউকে গ্রেফতার করতে না পারলে বিরোধীয় জমিটি স্থানীয় কাউন্সিলারদের জিম্মায় দিয়ে আসে। গতকাল ২৪ মে’১৮ইং বেলা ২টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের পালাকাটা খোন্দকার পাড়ায় ঘটেছে এ ঘটনাটি।
অভিযোগে জানাগেছে, বিগত ১৫ জানুয়ারী’১৮ইং আবু তাহের গংয়ের দীর্ঘ দেড়শত বছরের ভোগ দখলীয় বসতভীটা এলাকার সাহাব উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিন গং ভাংচুর ও লুটপাটের মাধ্যমে বিলীন করে দেয়। এনিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আবু তাহের বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় মামলা (নং জিআর ২৩/১৮) দায়ের করেন। ওই মামলা হতে পার পেতে অভিযুক্ত আসামী গিয়াস উদ্দিন ও রৌশনআরা পরিকল্পিতভাবে তাদের আত্বীয় ছায়রা খাতুনের শিশু কন্যা লতিফা জন্নাত নওরিন (বয়স-৪২দিন ) নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তাকে হত্যা করিয়াছে মর্মে হাবিবুর রহমান ও আবু তাহের গংয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে চকরিয়া থানায় হত্যা মামলা (নং জিআর ২৭/১৮) দায়ের করেন। ওই মামলায় নিরপরাধ আবু তাহের ও তার ভাতিজা মো: মন্নানকে আটক করে জেল হাজতে বন্ধী করে রাখেন। সম্প্রতি উক্ত মামলার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত চকরিয়ায় প্রেরণ করা হলে বিজ্ঞ আদালত তা পর্যালোচনা করে স্বাভাবিক ও অসুস্থতার কারণে শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়। ফলে বিজ্ঞ আদালত হত্যা মামলা (নং জিআর ২৭/১৮) এর বাদী ছাইরা খাতুনকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। আদেশের প্রেক্ষিতে মামলার বাদী ছাইরা খাতুন গত ৩ মে’১৮ইং আদালতে হাজির হলে আদালত বাদীর জবানবন্ধী রেকর্ড করেন। জবানবন্ধীতে মামলার বাদী ছাইরা খাতুন বলেন যে, এজাহারে বর্ণিত ঘটনার সাথে অভিযুক্ত আসামীরা সংশ্লিষ্ট নয় এবং এ রূপ কোন ঘটনা ঘটেনি। ভিকটিম নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এ মুহুর্তে তার (বাদী) মানষিক অবস্থাকে পুঁজি করে জিআর মামলা নং ২৩/১৮ এর বিবাদী রৌশন আরা ও গিয়াস উদ্দিন গং তাকে দিয়ে হত্যা মামলাটি করেন বলে তিনি বিজ্ঞ আদালতকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালত, কক্সবাজার কথিত হত্যা মামলায় জেল হাজতে আটককৃত আসামী আবু তাহের ও তার ভাতিজা মো: মন্নানকে গত ২২ মে’১৮ইং তারিখ জামিনে মুক্তি দেন।
এদিকে আবু তাহের ও তার ভাতিজা মো: মন্নান প্রথম পক্ষ হয়ে সাহাব উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিনসহ ৮জনের বিরুদ্ধে গত ১৭জানুয়ারী’১৮ইং তারিখ বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত, কক্সবাজার-এ ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৪৪ ধারার এমআর মামলা (নং ৫২/১৮) দায়ের করেন। উক্ত মামলায় বিজ্ঞ আদালত বিবাদীগনকে বিরোধী ভূমিতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পযর্ন্ত প্রবেশে বারিত (নিষেধাজ্ঞা) করেন এবং ওসি চকরিয়া থানাকে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেন। সর্বশেষ গত ১৭মে’১৮ইং চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক আবদুল খালেক আদালতের (স্মারক নং ৭৮১/১৮ এডিএম, তাং ১৪-৫-১৮) ভূমিতে স্থাপনা নির্মাণকাজ বন্ধ রাখাসহ শান্তিশৃংখলা বজায় রাখতে উভয়পক্ষ নোটিশ দেন। কিন্তু মামলার বিবাদী সাহাব উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিনগং তা উপেক্ষা করে বিভিন্ন জায়গা থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ভাড়ায় এনে প্রকাশ্য দিবালোকে বিরোধীয় ভূমিতে পাকা দালান নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখে। বিষয়টি নিয়ে এমআর মামলার বাদী আবু তাহের ও তার ভাতিজা মো: মন্নান বিষয়টি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)কে অবহিত করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে স্থানীয়রা পুলিশকে জানিয়েছেন, ভূমিদস্যু দখলবাজরা এলাকায় অত্যন্ত খারাপ চরিত্রের। তারা আইনকানুন কিছুই মানেনা। একটি নিরীহ পরিবারকে পরিকল্পিত মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রাণীসহ বসতভীটা জবর দখলের চেষ্টা চালিয়েছে।
জানতে চাইলে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, আদালতের আদেশ লঙ্গন করে বিরোধীয় ভূমিতে স্থাপনা নির্মাণের খবর পেয়ে থানার উপপরিদর্শক আবদুল খালেক ও উপপরিদর্শক জুয়েল চৌধুরীর নেতৃত্বে সংগীয় পুলিশদল ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে স্থাপনা নির্মাণকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামাল উদ্দিন, ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফোরকানুল ইসলাম তীতু ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর রাজিয়া সোলতানা খুকুমনির মধ্যস্থতায় বিরোধীয় জমি রাখা হয় এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পযর্ন্ত কোন ধরণের স্থাপনা নির্মাণ না করতে বলা হয়।
বিভাগের সংবাদ।

আবদুল মজিদ: