ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

s827sp32

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বদলা নেয়া আর হলো না। এ বছরই বাংলাদেশ সফর করতে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজে। টেস্ট সিরিজে স্বাগতিক দলের দাপটে দুমরে মুচড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে জয় পেয়েছিল সফরকারীরা। বাংলাদেশ সফরে এসে টেস্ট সিরিজেও একই দৃশ্য, স্বাগতিক দলের দাপট। টেস্টে বাংলাদেশের দাপটের পর ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা শুনিয়েছিলেন অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজেও হেরে বসল উইন্ডিজরা। শুক্রবার সফরকারীদের ৮ উইকেটে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। ইনিংসের ১১.৩ ওভার বাকি থাকতেই ম্যাচ শেষ করেছে বাংলাদেশ।

জয়ের লক্ষ্যটা মাত্র ১৯৯। প্রথম ওভারেই লিটনের দুই চার অবশ্য অন্য কিছু মনে করাচ্ছিল। যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন দৌড়ে রান তোলার চেয়ে বাউন্ডারি মারাতেই আগ্রহ বেশি ছিল তাঁর। কিন্তু তাতে ডট বলের সংখ্যাই বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত ১১তম ওভারের প্রথম বলে বাজে শট খেলে যখন লিটন আউট হলেন, ২৩ রানের ইনিংসেই ৫টি চার কিন্তু বল খেলেছেন ৩৩টি। অন্যপ্রান্তে তামিম ইকবাল বরং চার মারার চেয়ে স্ট্রাইক চেঞ্জ করাতেই মনোযোগ বেশি দিয়েই বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করছিলেন।

লিটনের আউট হওয়া তাই দলকে চিন্তায় ফেলেনি। ৪৫ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশ আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। অবশেষে টপ অর্ডারে সুযোগ পেয়ে সৌম্য প্রমাণ করেছেন, এখানেই তার স্থান। ৮১ বলে ঝকঝকে ৮০ রানের একটি ইনিংস খেলেছেন। পাঁচটি চারের সঙ্গে মেরেছেন পাঁচটি ছক্কা। যখনই তাঁর সেঞ্চুরি হবে কি না এমন একটা প্রশ্ন জেগেছিল, দলের জয় আর তার সেঞ্চুরির জন্য প্রয়োজনীয় রানের সমীকরণ মেলানোর কথা ভাবা হচ্ছিল, তখনই কিমো পলের দ্বিতীয় শিকার সৌম্য। ১৩১ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি থামল ৩৬তম ওভারে। জুটিতে তামিমের অবদান ছিল ৪৯।

সৌম্য আউট হওয়ার পরো জয় পেতে দেরি হয়নি বাংলাদেশের। ১৪ বলে ১৬ রান নিয়ে সিরিজ জয়ের কাজটা দ্রুত সেরেছেন মুশফিক। অন্যপ্রান্তে দলের আস্থা হয়ে ছিলেন তামিম। ১০৪ বলে ৮১ রানের নিখুঁত ইনিংসে ৯টি চার মেরেছেন তামিম। সৌম্যের ইনিংসের ক্ষেত্রে এটা বলা যাচ্ছে না। ইনিংসের প্রথম ছক্কার শটে আউট হতে পারতেন সৌম্য। ১৭তম ওভারের শেষ বলে মারলন স্যামুয়েলসকে উড়িয়ে মেরেছিলেন সৌম্য। মিড উইকেটে থাকা ব্রাফেট বল হাতে লাগিয়েও ধরে রাখতে পারেননি। সৌম্য তাই দ্বিতীয় জীবন পেয়েছেন ২০ রানে, বাংলাদেশের স্কোর তখন ৭৮। ৩৩ রানে থামতে পারত যে জুটি, সে জুটি পরে এনে দিয়েছে আরও ৯৮ রান। সে সঙ্গে নিশ্চিত হয়েছে দেশের মাটিতে বাংলাদেশের আরেকটি সিরিজ জয়।

এর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় তথা শেষ ওয়ানডেতে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯৮ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরুতেই স্পিন আক্রমণে আগের ম্যাচের মতোই চন্দ্রপল হেমরাজ (৯) কে মোহাম্মদ মিঠুনের তালুবন্দি করেন মেহেদী মিরাজ। দ্বিতীয় উইকেটও আসে এই তরুণের ঘূর্ণিতে। ড্যারেন ব্রাভোকে বোল্ড করে ভাঙলেন জমে উঠতে থাকা জুটি। উইন্ডিজের দলীয় ৫৭ রানে লেগ-মিডল স্টাম্পে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন মিরাজ। তৃতীয় উইকেট আসে রুবেল হোসেনের স্থলাভিষিক্ত সাইফ উদ্দিনের হাত ধরে। তরুণ পেসারের সোজা বোল্ড হয়ে যান ১৯ রান করা স্যামুয়েলস।

বিপজ্জনক শেমরন হেটমায়ার চলতি সফরে ৬ষ্ঠবারের মতো মিরাজের শিকার হয়ে ‘ডাক’ মারেন। তরুণ স্পিনারের বলে মুশফিকের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে চতুর্থ শিকার হন রোভম্যান পাওয়েল (১)। এর মাঝেই সাইফউদ্দিনের একটি বল মুশফিকের পেছনে মাটিতে রাখা হেলমেটে রাখলে পেনাল্টি হিসেবে ৫ রান পায় সফরকারীরা। এরপর মঞ্চে আবির্ভাব সাকিব আল হাসানের। বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডারের ঘূর্ণিতে সীমানর ওপর থেকে রোস্টন চেইসের (৮) দুর্দান্ত ক্যাচ নেনে সৌম্য সরকার। এই ঘূর্ণি তারকার দ্বিতীয় শিকার এক ছক্কায় ৬ রান করা অ্যালান।

অধিনায়ক মাশরাফির দারুণ এক ডেলিভারিতে পলের (১২) লেগস্টাম্প উড়ে যায়। অধিনায়কের দ্বিতীয় শিকার কেমার রোচ (৩)। রিভিউ নিয়েও এলবিডাব্লিউডের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে পারেননি এই পেসার। দলের ৯ উইকেট পতনের পর দেবেন্দ্র বিশুকে সঙ্গী করে সেঞ্চুরি তুলে নেন শাই হোপ। সাকিব আল হাসানকে ছক্কা মেরে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে তিন অংক স্পর্শ করতে হোপ খেলেন ১২১ বল। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থাকেন ১০৮ রানে। ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯৮ রানে শেষ হয় উইন্ডিজের ইনিংস। বল হাতে মাত্র ২৯ রানে ৪ উইকেট নেন মিরাজ। ২টি করে উইকেট নেন মাশরাফি এবং সাকিব। ১টি উইকেট নিয়েছেন সাইফউদ্দিন।

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।