সর্বশেষ শিরোনাম
চকরিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি আবদুল মজিদকে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের গণসংবর্ধনাচকরিয়ায় ৩মাসের অন্ত:স্বত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতন করে তাড়িয়ে খাইরু নামের এক প্রতারকের ৩য় বিয়েঅন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজের আলো ও সফল নেতৃত্বের মডেল ছিলেন জিএম রহিমুল্লাহ‘তারুণ্যের আলো’ সামাজিক সংগঠনের আত্মপ্রকাশজেলা জজ আদালতের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালিতচকরিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিতজাতীয় শোক দিবস ও শাহাদাত বার্ষিকী এমপি জাফর আলমের ব্যবস্থাপনায় চকরিয়া-পেকুয়ায় ৩০ পশুর গণভোজচকরিয়া পৌরসভায় মসজিদ ভিত্তির আদর্শ সমাজ ব্যবস্থা কাহারিয়াঘোনা ও করইয়াঘোনা গ্রাম সর্বমহলের নজর কেড়েছেচকরিয়া গ্রামার স্কুলে ৩ কোটি টাকার নতুন ভবন বরাদ্ধ দেয়া হবে ঈদপূর্ণমিলনীতে এমপি জাফরনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

লোহাগাড়ায় সিএনজি চালক হত্যার ঘটনায়ধৃত নিরপরাধ খোরশেদের মুক্তি দাবি বাবা’র

[post-views]

56652779_2295381890784788_850425205602910208_n

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সিএনজি টেক্সি চালক আবদুল মোনাফ হত্যার ঘটনায় নিরাপরাধ যুবক খোরশেদকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে ছেলের মুক্তি দাবী করে সংবাদ সম্মেলন করেছে পিতা মুছা সওদাগর।
সংবাদ সম্মেলনে লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া মৌলভী পাড়ার গ্রেফতারকৃত যুবক খোরশেদের বাবা মো. মুছা সওদাগর বলেন, গত ৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ঠাকুরদিঘীর পশ্চিম পাশে ধান ক্ষেত থেকে সিএনজি চালক আবদুল মোনাফের লাশ উদ্ধার করেন পুলিশ। হত্যাকান্ডের এ ঘটনায় লোহাগাড়া থানায় সংবাদ সম্মেলনে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাছানুজ্জান মোল্যার বক্তব্য সহকারে ২০ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হয়।
খোরশেদের পিতা বলেন, অতিব দুঃখের বিষয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হত্যা মামলার সাথে জড়িত আসামীদের আটক করতে গিয়ে অন্যান্য আসামীসহ দুইজন খোরশেদকে আটক করেন। প্রথম জন খোরশেদ (সিএনজি চালক) পিতাঃ নুর নবী প্রকাশ বদ ওরফে বদিয়া, মাতা: কমরু, গ্রাম: নাগারা, পশ্চিমের দোকান, ইউনিয়ন: পদুয়া, থানা: লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম এবং দ্বিতীয় জন আমার ছেলে খোরশেদ। কিন্তু পুলিশ প্রথম জনকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়। যার সাথে ইতিপূর্বে গ্রেফতার হওয়া মিজানুর রহমান সাহেদের পূর্ব শত্রুতা ছিল। আমার ছেলে খোরশেদকে লোহাগাড়া থানায় নিয়ে গেলে আমি তাকে থানায় দেখতে যাই। কিন্তু আমাদেরকে দেখা করার অনুমতি না দিয়ে থানা থেকে তাড়িয়ে দেন। পাঁচ দিন পর আদালতে খোরশেদের সাথে দেখা হয়। খোরশেদ আমাদের দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সে জানায়, তার উপর অমানবিক নির্যাতন, ভয় ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বাধ্য করেই আমার ছেলে খোরশেদ থেকে ১৬৪ ধারায় ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে মর্মে কথিত জবানবন্দি আদায় করেছেন। তারা শারিরীক নির্যাতনের ছবি ছবিও সংগ্রহ করেন। এছাড়া রিমান্ডে নিয়ে গিয়ে সন্তানকে অমানবিক নিযার্তন চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, থানা পুলিশ আদালতে যে অগ্রগামী প্রতিবেদন দিয়েছে। সেখানে খোরশেদকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানোর কথা। আমার প্রশ্ন তিনজন আসামীর মাঝে শুধুমাত্র আমার ছেলে খোরশেদকে কেন শারিরীক নির্যাতনের পর হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হয়েছে। যেহেতু আমার ছেলে নিরাপরাধ সেহেতু ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিরাপরাধ খোরশেদকে নির্যাতন পূর্বক ভয় ভীতির মাধ্যমে জবানবন্দি আদায় করেছে। আরো উল্লেখ্য যে, মামলার বাদী খতিজা বেগম ধৃত আসামী মিজানুর রহমান সাহেদ ও তার মায়ের চক্রান্তেই স্বামী আবদুল মোনাফকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেন।
ধৃত নিরপরাধ খোরশেদের পিতা আরো বলেন, আমি একজন সাধারণ মানুষ। দারিদ্রতার মধ্যে অভাব অনটনে সংসারে স্ত্রী, ছেলে, মেয়েদের নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করে আসতেছি। সিএনজি চালক আবদুল মোনাফের হত্যা সত্যিই দুঃখজনক। আমি ও আমার পরিবার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকৃত হত্যাকারীদের আইনের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত হউক আমিও চাই।
মুছা সওদাগর বলেন, ধৃত আসামী মিজানুর রহমান সাহেদের বড় ভাই তারেকের সাথে নিহত আব্দুল মোনাফের দীর্ঘ দিনের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। সাহেদের পরিবার অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পারায় তারেককে দীর্ঘ নয় মাস লুকিয়ে রাখে মোনাফকে। মোনাফ তারেকের পরিবার থেকে কয়েক দফা টাকা নিয়ে তারেককে ছেড়ে দেয়। মোনাফের কাছ থেকে ফিরে আসার পর তারেককে বিদেশ পাঠিয়ে দেয় তার পরিবার। এই সময়ের মধ্যে মিজানুর রহমান সাহেদের মায়ের সাথে মোনাফের অবৈধ সম্পর্ক হয়। মায়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক মিজান ও তার বড় ভাই তারেক এবং পরিবারের লোকজন মেনে নিতে পারেনি। এ সম্পর্ক পরিবারের লোকজন জানতে পারলে ভূল বুঝা বুঝি সৃষ্টি হয় মোনাফের সাথে। তাই মোনাফের এ অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিশোধ নিতে ছোট ভাই মিজানুর রহমান সাহেদকে মোনাফের কাছে সিএনজি ড্রাইভিং শিখার জন্য পাঠায়। এ সুযোগে মিজানের সাথেও অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা ইতি পূর্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ সুপার মহোদয়ের সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট হয়ে যায়। মায়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে মিজানের পরিবার পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে মোনাফকে। তাছাড়া আব্দুল মোনাফের স্ত্রী মামলার বাদী নিজেও জানেনা। মামলার বাদী ও মিজানুর রহমান সাহেদের মাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত ঘটনার রহস্য উমে¥াচন হবে এবং আমার নিরাপরাধ ছেলে খোরশেদ মুক্তি পাবে।
তিনি আরো বলেন, ছয় মাস পূর্বে মিজানুর রহমান সাহেদের গাড়ীর সাথে ধাক্কা লাগে। সেই থেকে খোরশেদের সাথে মিজানের ভূল বুঝা বুঝি সৃষ্টি হয় এবং মিজানকে দেখে নেয়ার হুমকি দেওয়া হয়। অথচ: আমার ছেলে খোরশেদের সাথে মিজান ও মোনাফের সাথে কোন ভূল বুঝা বুঝিও ছিলনা। থানায় দু’জন খোরশেদকে আটক করল। আসল খোরশেদকে থানা থেকে ছেড়ে দিল নিরপরাধ খোরশেদকে বিনা অপরাধে আসামী হয়ে জেলে গেল। এখন বিনাঅপরাধে আমার ছেলের মত অনেকে জেল খেটেছে। তাই গতভাগা পিতা বিজ্ঞ আদালতসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ পূর্বক সুবিচার কামনা করেছেন।

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।