সর্বশেষ শিরোনাম
চকরিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি’র নিম্ন আদালতে স্থায়ী জামিন লাভচকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকিত’র নেতৃত্বে শুকনো খাবার বিতরণচকরিয়ায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে শ্রেষ্ট্র পরিদর্শিকার সম্মাননা পেলেন তসলিমা খানম মিনুচকরিয়ার দুই ইউপি উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে ১২ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দচকরিয়ায় শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ বিতরণচকরিয়ায় উচ্চ অাদালতের নিষেধাক্ষা অমান্য, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি জবর দখল চেষ্টাসাংবাদিক আবদুল মজিদের বিরুদ্ধে চকরিয়ার এসিল্যান্ডের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধনএমপি জাফর আলমের প্রচেষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পেলেন ২৫ অসুস্থ ব্যক্তিডুলাহাজারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন।চকরিয়া উপজেলা বিএনপি কমিটি বিলুপ্ত, আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

চকরিয়ায় অধিগ্রহণের ক্ষতিপুরণে টাকা দাবিনিয়ে মালিক ও দখলদারদের মধ্যে উত্তেজনা

[post-views]

chakaria pic 16-4-19 (1)

মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গা সেতু নির্মাণ

চকরিয়া অফিস:
মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গা সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সেতুর আশপাশ এলাকার জমি মালিকদের কাছে অধিগ্রহনের আওতায় দফায় দফায় নোটিশ জারি করেছেন জেলা প্রশাসন। জমির কাগজপত্র যাছাই-বাছাই শেষে বেশিরভাগ জমি মালিকদের মাঝে সম্প্রতি সময়ে ক্ষতিপুরণের টাকা বিতরণও শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভুমি শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জমি অধিগ্রহনের বিপরীতে ক্ষতিপুরণের টাকা বিতরণে জমির প্রকৃত মালিকদেরকে উপেক্ষা করে চলছেন। পক্ষান্তরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্ষতিপুরণের টাকা দেয়া হয়েছে স্থাপনায় দখলে থাকা লোকজন। এ ঘটনায় জমি মালিক ও দখলদারদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জমি মালিক ও দখলদার পক্ষের বিরোধের জেরে সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার সকালে চকরিয়া উপজেলা সদরে মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গা সেতু পয়েন্টে অধিগ্রহনের আওতায় পড়া জমি পরির্দশন ও ভুক্তভোগী জমি মালিকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে এসেছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরির্দশনের একপর্যায়ে চকরিয়া সড়ক বিভাগের অফিনের সামনে ক্ষতিপুরণের টাকা দাবি নিয়ে দুইপক্ষের লোকজন ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। ওইসময় দুইপক্ষের লোকজনের হামলা ও পাল্টা হামলায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন, সরকারিভাবে নীতিমালায় আছে, অধিগ্রহনের আওতায় পড়া এসব জমির খতিয়ানমুলে বৈধ মালিকই ক্ষতিপুরণের টাকা পাবে। কিন্তু টাকা বিতরণের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের ভুমি শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খতিয়ানমুলে বৈধ মালিকের বদলে উল্লেখিত জমিতে যারা অবৈধভাবে দখলে আছেন তাদেরকে দখলদার ক্যাটাগরীতে রেখে ক্ষতিপুরণের টাকা দিচ্ছেন। এতে প্রকৃত জমি মালিকরা ক্ষতিপুরণের টাকা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ধরণের অহরহ ঘটনা বর্তমানে বিরাজ করছেন।
অনুরূপভাবে চিরিঙ্গা সেতুর পাশে চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা মৌজার ১৬ সৃজিত খতিয়ান নং ১০১৩, ২৯০ নং বিএস দাগের অনুকুলে ১০ শতক জমি মালিক হন চকরিয়া পৌরসভার ২নম্বর ওয়ার্ডের জনতা মার্কেট এলাকার আলহাজ মোজাহের আহমদ সওদাগরের ছেলে সামসুল আলম ও কায়সার আলম। ইতোমধ্যে উল্লেখিত জমি অধিগ্রহনের আওতায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে তাদের নামে তিনটি নোটিশ জারি করা হয়েছে। সর্বশেষ নোটিশে ক্ষতিপুরণের টাকা বুঝে নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের ভুমি অধিগ্রহন শাখায় উপস্থিত হতেও বলা হয়।
জমি মালিক সামসুল আলম দাবি করেছেন, প্রথমে জমি অধিগ্রহন ও পরবর্তীতে ক্ষতিপুরণের টাকা বুঝে নিতে আমাদেরকে তিনবার নোটিশ দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসন থেকে। সর্বশেষ নোটিশের পর আমরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে গেলে জানতে পারি আমাদের উল্লেখিত জমির দখলদার পরিচয়ে জাকারিয়া নামের একব্যক্তি ক্ষতিপুরণের বেশির ভাগ টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিয়েছেন।
সামসুল আলম অভিযোগ করেছেন, জাকারিয়া নামের ওই ব্যক্তি একই মৌজার ১৯৬ সৃজিত খতিয়ানের ২৯০ নং দাগের মাত্র এক দশমিক ৫০ শতক জমির মালিক। কিন্তু তিনি কতিপয় দালাল চক্রের যোগসাজসে সুকৌশলে আমাদের জমির অনুকুলে ক্ষতিপুরণের টাকা লুটে নিচ্ছেন।
অপরদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের সরেজমিনের তদন্ত কালে মরহুম মাওলানা শাহসুপী আহমদ হোসেন মিয়াজী গংয়ের হামলা চালায় মরহুম সোলতান আহমদ (সোলতান আমিন) এর পুত্র সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য সহকারী আবু তালেব ও আজিজুল হক লিটনের ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন মরহুম মাওলানা শাহসুপী আহমদ হোসেন মিয়াজীর মেয়ে রহিমা খাতুন (৫১), মুর্শিদা খাতুন (৪৫), মাহমুদা খাতুন (৪০), জান্নাত আরা (৩৮), মাওলানা মোহাম্মদ আলী (৫৮), আবদুল মন্নান (৫২), আবদুল হামিদ (৫০), মহিউদ্দিন কন্ট্রাক্টর (৪৭), মৃত রহমত উল্লাহর স্ত্রী সেতারা বেগম (৪২)। ফলে হামলার শিকার পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিষয়টি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে তদন্তে উপস্থিত কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ম্যাজিষ্ট্রেট ও ভুমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো.শহিদুল হক বলেন, জমি অধিগ্রহন ও ক্ষতিপুরণের টাকা বিতরণের ক্ষেত্রে কোন ধরণের অনিয়ম হবেনা। কিছু কিছু ভুমি মালিক ক্ষতিপুরণের টাকা প্রাপ্তি নিয়ে অভিযোগ করায় সরেজমিন বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বৈধ কাগজপত্র অর্থাৎ খতিয়ানমুলে যিনি জমির মালিক তিনিই ক্ষতিপুরণের টাকা পাবেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে জমিতে দখলকারক হিসেবে যিনি আছেন তিনিও সুবিধার আওতায় আছে।
ভুমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো.শহিদুল হক বলেন, চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা মৌজার ১৬ সৃজিত খতিয়ান নং ১০১৩, ২৯০ নং বিএস দাগের জমির বিষয়ে যখন আপত্তি উঠেছে, পরবর্তীতে বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত উল্লেখিত দাগের জমির ক্ষতিপুরণের টাকা বিতরণ প্রয়োজনে বন্ধ রাখা হবে।

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।