চকরিয়ার চিরিংগা বাস ষ্টেশন মসজিদে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে আয়-ব্যয়ের হিসাব নেই,মুসল্লীদের ক্ষোভ

[post-views]

chiringa bus s moqsjid 19-5-19

বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ৬ লক্ষ টাকা

চকরিয়া অফিস:
চকরিয়া পৌর শহরের চিরিংগা বাসষ্টেশন জামে মসজিদের চলছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। দীর্ঘ ২৫ বছরে একটি কমিটি, নেই কোন ধরণের আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ। এমনকি অত্র মসজিদে লক্ষ লক্ষ টাকায় আয় হলেও মসজিদের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে প্রায় ৬লক্ষাধিক টাকা। বর্তমানে কমিটির সভাপতিসহ তার সহযোগি অন্যান্য সদস্যরা লাপাত্তা হওয়ায় মসজিদ রক্ষণা-বেক্ষণসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে মসল্লীদের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা চলমান ব্যর্থ কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মুসল্লীরা জানিয়েছেন, চকরিয়া পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী চিরিংগা বাসষ্টেশন জামে মসজিদটি শহরের মূল ভূকন্ডে হলেও বিগত সময়ে চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়নি। মসজিদের নিজস্ব প্রায় ১০টি দোকান রয়েছে, তা থেকে প্রতি মাসে ভাড়া উত্তোলন, সাপ্তাহের প্রতি জুমায় মুসল্লীদের কাছে দান-চাদাঁ গ্রহণ এবং বিশেষ অনুদানসহ লক্ষ লক্ষ টাকা আয় রয়েছে। এসব টাকা ব্যাংকে জমা থাকার নিয়ম থাকলেও তা থাকতো ব্যক্তি বিশেষের পকেটে। মুসল্লীরা জানান, যেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা জমা থাকার কথা, সেখানে উল্টো মসজিদের নামে প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। মূলত: মসজিদের নাম নিয়ে নিজেদের উন্নয়নই করেছে মসজিদ কমিটির সভাপতিসহ অন্যরা। মসজিদের ঐতিহ্য শেষের পথে, বর্তমানে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে এই মসজিদটি। দিন দিন কমে যাচ্ছে মুসল্লির সংখ্যা। যা অত্যন্ত দু:খজনক। হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে মুসল্লীরা নতুন কমিটি গঠনের জন্য জোর দাবী জানান।
চকরিয়ার সর্বজন শ্রদ্ধেয় পীরে কামেল মরহুম মাওলানা মাহমুদুর রহমান ও মরহুম মোজাহের আহমদ কোম্পানীসহ সমাজের গুণিজনদের হাতে এ মসজিদটি প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কিন্তু বিগত ২৫ বছর ধরে মোহাম্মদ ইউনুছের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির নেতৃত্বে আশানূরুপ উন্নয়ন সাধিত হয়নি, বরংস মসজিদের অর্থ আর্ত্বসাত করা হয়েছে। পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ন এ মসজিদকে অধিক সুন্দর, দৃষ্টিনন্দন ও সুচারুভাবে সাজাতে নতুন কমিটি ঘোষণার বিকল্প নাই। চিরিংগা সোসাইটি জামে মসজিদে বর্তমানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। মুসল্লীরা অধিক স্বাচ্ছন্দ নিয়ে প্রতিদিন নামাজ আদায় করছেন, বাসষ্টেশন মসজিদকেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করতে চান মুসল্লীরা।
এসব দাবী উত্তাপন করেন মসজিদের অন্যতম জমি দাতা মরহুম মোজাহের আহমদ কোম্পানীর ছেলে শামসুল আলম, মুসল্লী খাজা নাজেমুল ইসলাম, মুসল্লী ও সাংবাদিক একেএম বেলাল উদ্দিনসহ অসংখ্য মুসল্লী। মুসল্লীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে চলমান অবস্থা নিয়ে তাদের মাঝে মসজিদ চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।