চলছে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে মেরামত কাজ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মাতামুহুরী সেতুতে ৩১ মে বেলা ২টা পযর্ন্ত যান চলাচল বন্ধ

[post-views]

61132636_1188082404713940_5065305139787595776_n

আবদুল মজিদ,চকরিয়া:
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ মাতামুহুরী সেতু দিয়ে ৩০ মে দিবাগত রাত ১২টা হতে ৩১ মে বেলা ২টা পযর্ন্ত যান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (বাংলাদেশ) এর আওতায় জাইকা অর্থায়নে নির্মিতব্য মাতামুহুরী সেতুর উপর যান চলাচল অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় আসন্ন ঈদের পূর্বে জরুরী ভিত্তিতে মেরামত কাজ সম্পন্ন করতে উক্ত নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। তবে রাত ১২ হতে ভোর ৪টা পযর্ন্ত মেরামত কাজের জন্য সকল যান-বাহন বন্ধ থাকলেও ৪টা থেকে বেলা ২টা পযর্ন্ত ছোট ও মাজারি আকারের গাড়ী চলাচলে শিথিল করা হবে। উক্ত সময়ের মধ্যে ব্রীজের ২ লেনের কাজ শেষে উভয় লেনে স্বাভাবিক নিয়মে যান-বাহন চলাচল করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে।
জানাগেছে, বারবার জোড়াতালির মেরামতেও দীর্ঘ সময় সচল রাখা যাচ্ছেনা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার মাতামুহুরী সেতুটি। ঝুকিঁপূর্ণ সেতুটি ধ্বসে যাওয়ার পর আট ঘন্টা সেতু দিয়ে যানচলাচল বন্ধ রেখে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেতুর উপরের একপাশে স্টিলের পাটাতন ও গার্ডার দিয়ে অনেকটা বেইলি সেতুর আদলে মেরামত কাজ করে। এরপর সেতুর উপর দিয়ে একলেনে যানবাহন চলাচল সচল করা হলেও সেতুটি পার হতে লেগে যাচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ফলে সেতুর দু’দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে সীমাহীন দূর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে পথচারীসহ সাধারণ জনসাধারণকে।
সূত্রে জানায়, প্রায় ৬০ বছর বয়সী মাতামুহুরী সেতুটি বেশ কয়েক বছর পূর্বে সেতুর নীচ অংশে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিলে যাবাহন চলাচলে ঝঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুর মেরামত কাজ করে সেতুটি ধ্বসে হাত থেকে রক্ষা করা হলেও সেতুর উপর অংশে বড় ধরণের গর্তের সৃষ্টি হয়। এরপর কর্তৃপক্ষ জোড়াতালি দিয়ে মেরামতের পর যানবাহন চলাচল সচল করার চেষ্টা করলেও সেটি আর বেশীদিন স্থায়ীত্ব হয়নি। ওই সময় সেতুর উপর দিয়ে সেতুর উপর দিয়ে ১০ টনের অধিক ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দিলেও কিছু প্রভাবশালী মহল সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বালু ও সিমেন্ট ভর্তি ৩০-৪০ টনের অধিক ভারী যানবাহন চলাচল করায় সেতুটি আবারও দেবে যায়। অবশেষে স্থায়ী মেরামতের জন্য গত ২২ মে রাত ১১টা থেকে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত সেতুর উপর দিয়ে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় বিকল্প পথ হিসেবে চকরিয়া থানা রাস্তার মাথা-ঈদমনি লালব্রীজ ও পেকুয়া চৌমহনী হয়ে বরইতলী একতা বাজার সড়ক দিয়ে চলাচল করে দূরপাল্লাসহ সকল আভ্যন্তরীণ সড়কের যানবাহন। আবার কোন কোন যানবাহন পেকুয়া চৌমহনী হয়ে বাঁশখালী সড়ক দিয়েও চলাচল করে।
তবে স্থানীয়দের আশংকা সেতুর উভয় পার্শ্বে লোহার পাটাতন বসিয়ে বেইলী সেতু আকারে সেতুটি পুনরায় দুই লেনের যানবাহন চলাচলের জন্য সচল করা হলেও আবারো যদি বালি ও সিমেন্ট বোঝাই ভারী যানবাহন চলাচল করে তাহলে পুনরায় সেতুটি ধ্বসে গিয়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের চকরিয়া অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু এহেছান বলেন, মাতামুহুরী সেতুটি দীর্ঘদিনে পুরানো সেতু। এর বয়স আনুমানিক ৬০-৭০ বছর হবে। সেতুর উপর দিয়ে ১০ টনের অধিক ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দিলেও কিছু প্রভাবশালী মহল সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বালু ও সিমেন্ট ভর্তি ৩০-৪০ টনের অধিক ভারী যানবাহন চলাচল করায় সেতুটি আবারও দেবে যায়। ফলে মাঝে মধ্যে সেতুর সংস্কার কাজের জন্য যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। সেতুর অপর অংশ মেরামত কাজ শেষ হলে এ সমস্যা কেটে যাবে বলেও জানান তিনি।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দিন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (বাংলাদেশ) এর আওতায় জাইকা অর্থায়নে মাতামুহুরী নদীতে নতুন সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয়েগেছে। বর্তমান ঝুকিপূর্ণ সেতুর মেরামত কাজ করছেন উক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তিনি মেরামত কাজ শেষ না পর্যন্ত বিকল্প সড়কে যান-বাহন চলাচলের জন্য আহবান জানান

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।