জীবন- ধর্ম -দর্শন এবং আস্তিক-নাস্তিক!!

56902471_440047586760327_7229845597568630784_n

“জীবন, ধর্ম ও দর্শন”

বিষয়গুলো একটি অপরটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।এই বিষয় গুলোর একটিকে বাদ দিয়ে অপরটি কল্পনা করা যায় না। আমরা অনেকে ধর্মকে তথা স্রষ্টাকে বিশ্বাস করি,আবার অনেকে স্রষ্টাকে বিশ্বাস করি না,বরং স্রষ্ট্রার অস্তিত্ব নিয়ে নানান রকম প্রশ্ন তুলি।আমার স্বল্প জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতায় আমি এমন মানুষকেও দেখেছি যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে কিন্তু স্রষ্টার অস্তিত্ব নিয়ে আবার প্রশ্নও তুলে।স্বভাবতই আমি মানুষগুলোকে দেখে অবাক হই।আসলেই ব্যাপারটা একদম অবাক করার মতোই।এইসব মানুষগুলো সাধারণত অনেক যুক্তিবাদী হয়,তাছাড়া তাদের দখলে থাকে যুক্তির উন্মাদনা এবং অকল্পনীয় কিছু প্রশ্ন।সেরকম একটা প্রশ্নের কথা বলি,প্রশ্নটা হচ্ছে “কোরআন পাঠ করলে নেকি পাওয়া যায়,কিন্তু কেন কোরআন পড়লে নেকি পাওয়া যায়?আর কেরআন পড়লে ব্যক্তির কি লাভ?এমন আরো হাজারো প্রশ্ন আছে তাদের ঝুলিতে।যাই হোক আমি সেদিকে আর যাব না,মূল কথায় আসি। আসলে আমি মনে করি,ধর্ম হচ্ছে কতকগুলি বিশ্বাসের সমষ্টি। আপনি সবকিছু সহজেই বিশ্বাস করবেন আপনার কাছে ধর্মের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আর কোন প্রশ্ন থাকবে না।কিন্তু যদি আপনি বিশ্বাসের পথ থেকে সরে দাড়ান তাহলে আপনি এভাবে হাজারো প্রশ্ন দাঁড় করাতে পারবেন।এক্ষেত্রে বিশ্বাসের দিকটিই মুখ্য।আবার যারা ধর্মের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে পেরেছে তারাই আস্তিক আর যারা রাখতে পারেনি,বরং ধর্মকে নানান প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে তারাই নাস্তিক।সহজ কথাই আস্তিক আর নাস্তিক বলতে আমরা এইটুকুই বুঝি। বিশ্ব জগতের সৃষ্টিকর্তাকে যারা অস্বীকার করে তাদের উদ্দেশ্যে দুটি কথা বলে লেখাটা শেষ করব।প্রথমে বলব যারা সৃষ্টি কর্তাকে অবিশ্বাস করে তারা এক ধরণের বিরাট মাপের মূর্খ।কারণ কিছু বিষয় একটু সূক্ষভাবে চিন্তা করলেই আমরা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের প্রমাণ অনুভব করতে পারব। এবার একটা গল্প বলি।বিজ্ঞানী নিউটনের এক বন্ধু ছিলেন নাস্তিক। সৃষ্টিকর্তা আছেন একথা তিনি বিশ্বাস করতেন না।৷ তিনি বলতেন এ জগৎ আপনা আপনি সৃষ্টি হয়েছে।একদিন নিউটন মাটি,রং,তুলি দিয়ে একটি সুন্দর মডেল তৈরী করেছিলেন। নাস্তিক বন্ধু নিউটনের বাড়িতে এসে মডেলটি দেখতে পেলেন।তিনি প্রশ্ন করলেন এত সুন্দর মডেলটি কে বানিয়েছে? নিউটন বললেন এটা কেউ বানায়নি।না,না।সত্যিই বল ওটা কে বানিয়েছে?আগেই বলেছি, ওটা কেউ বানায়নি।বন্ধু বলতে লাগল, না,ওটা নিশ্চয় তুমি বানিয়েছ।তখন নিউটন উত্তর দিলেন,এই তুচ্ছ জিনিসটা কেউ বানায়নি, এটা তুমি বিশ্বাস করছো৷ না।অথআ যখনই আমি বলি যে এই মহাবিশ্বের অসংখ্য গ্রহ নক্ষত্র নিশ্চয় কেউ সৃষ্টি করেছেন,তখন সেই কথাটি কেন তুমি বিশ্বাস করছো না?জগৎ আপনা আপনি সৃষ্টি হয়েছে একথা কেন বলছো? এই গল্পটা পড়ার পর কি বুঝাতে চাচ্ছি সেটা নিশ্চয় আর লেখার দরকার পড়ে না।মোটকথা, ধর্মের মধ্য দিয়ে জীবনকে পরিচালনা করা ঠিক তখনই দ্বিধাহীন হবে,যখন আমরা সেটির উপর বিশ্বাস রাখতে পারব।ধন্যবাদ।। লেখক,তানভীর তামীম।

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।