নৈতিক মূল্যবোধ,সামাজিক নিরাপত্তা এবং সুন্দর আগামী!,

56902471_440047586760327_7229845597568630784_n

তানভীর মোর্শেদ তামীম

আমার একটা দোষ আছে,দোষটা হচ্ছে আমি চাটুকার নই। সমাজটা আজ গুটি কয়েক চাটুকারদের দখলে,আমার কষ্ট সেখানে নয়, আমার কষ্ট ঐ জায়গায় যখন দেখি কিছু লোক চাটুকারদের চাটুকারিতায় মুগ্ধ হয়ে তাদের প্রশ্রয় দিয়ে মাথায় তোলে রাখে,আমি তাদেরকে দেখে অবাক হই,লজ্জিত হই।আর চিন্তা করি একজন মানুষ কতটা নির্বোধ হলে চাটুকারদের চাটুকারিতায় মুগ্ধ হয়ে মহা উল্লাসে মেতে উঠে।আসলে আজকাল আমাদের লজ্জা বলে কিছুই নেই।সেদিকে আর যাচ্ছি না,মোটকথা আজ আমাদের চিন্তা-চেতনা থেকে শুরু করে সব কিছুই পরিবর্তন হয়েছে।এখন যদি সমাজের দিকে তাকাই তাহলে দেখব, সমাজ আর আগের মতো সুশৃঙ্খল নেই,মানুষ প্রতিনিয়ত ক্ষমতাধরদের আক্রোশের শিকার হচ্ছে, মারামারি-কাটাকাটি যেন এখন সমাজের নিত্যসঙ্গী।সব মিলিয়ে আমরা নামে আগের চেয়ে সভ্য হলেও বাস্তবে পুরোপুরি সভ্য নয়।সভ্যতার মুখোশে অসভ্যের চাকা দিয়ে হাল চাষ করছি বললে আমার মনে হয় মোটেও ভুল হবে না।আবার এখন পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায় ধর্ষণ!ধর্ষণ!ধর্ষণ!এস­ব এখন আমাদের কাছে অনেক স্বাভাবিক। কারণ,প্রতিদিনই ঘটছে এইসব জঘন্যতম কাজ।রাষ্ট্রের বা কি দোষ?রাষ্ট্র এদের ছাড় দিচ্ছে বললে ভুল হবে,কারণ রাষ্ট্র এদের বিরুদ্ধে এক প্রকার যুদ্ধ ঘোষনা করেছে, যার প্রমাণ আমরা সম সাময়িক ঘটনাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবো।আমি মনে করি আমরা একেবারে অন্যায়ভাবে সরকারের দোষারূপ করছি, কারণ হিসেবে বলব,সরকার কি কাউকে বলেছে তোমরা ধর্ষণ করে যাও,তোমাদের কোন সমস্যা নেই?জ্বি এমনটা কখনো বলেনি।সেটাই সত্য।আসলে এইসব ঘটনা ঘটতেই থাকবে যদি আমরা নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ না হই এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারি।একজন মাদ্রাসার শিক্ষক যখন ধর্ষণ মামলায় জেলে যায় ঠিক তখনই স্পষ্ট হয়ে উঠে আজ আমাদের নৈতিকতার কতটুকু অবক্ষয় হয়েছে।আমি বিশ্বাস করি আমাদের মাঝে নৈতিক জ্ঞান, সামাজিক মূল্যবোধ যদি বিন্দুমাত্র থেকে থাকে তাহলে আমরা কখনো ধর্ষণের মত জঘন্য কাজে নিজেকে জড়িয়ে একটি কালো অধ্যায়ের ভয়ংকর সূচনা করতাম না।তাই আইন-কানুনের সুষ্ঠু প্রয়োগহীনতাকে দ্বায় না করে আমরা যদি সামাজিক এবং নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হই তাহলে আমি নিশ্চিত সমাজ থেকে ধর্ষণ শব্দটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।অনেকে বলবে এটা কখনো সম্ভব না,প্রত্যত্তুরে আমি তাদেরকে বলব, পৃথিবীতে কোন কিছুই অসম্ভব নয়,সব সম্ভব। শুধু প্রয়োজন আমাদের আন্তরিকতা আর সামাজিকভাবে সকলকে মহৎ কাজে উৎসাহিত করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মহান ব্রত গ্রহণ করা।আসলে আমরা সবাই শান্তি চায় বলে স্লোগান দিয় কিন্তু কিভাবে শান্তি ফিরিয়ে আনা যায় সেটা কেউ চিন্তা করিনি,আর এই একটি কারণে আমরা আজ পৃথিবীর সমৃদ্ধশালী অন্যান্য দেশের চাইতে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছি,সেটা না মানার কোন সুযোগ আমি দেখি না।সমাজকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হলে আগে নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে,এটা ভুলে গেলে চলবে না।অতএব সমাজটা যেহেতু আমাদের সুতরাং সেটার পরিবর্তনের দায়িত্বও আমাদের।আর সেদিক বিবেচনায় বলব আগে যদি আমি ঠিক না হই,আমি ভাল কিছু চিন্তা করতে অভ্যস্ত না হয় তাহলে কখনো আমাদের দ্বারা আমাদের সমাজের উন্নতি-মঙ্গল কামনা করা আর পৃথিবীতে বসে আাকাশের চাঁদ ধরার স্বপ্ন দেখা, একই কথা।সবশেষে বলব আমাদের সমাজটার পরিবর্তন দরকার,রাষ্ট্রের কাজে আমাদের সহযোগিতা করা দরকার,সরকারের উন্নয়নমুখীকাজে সমালোচনা না করে বরং তাদেরকে আরও বেশী উৎসাহিত করা দরকার।না হলে সমাজটা সভ্যের মুখোশে গভীর অন্ধকারে নিরবে নিভৃতে তলিয়ে যাবে,যা কখনোই আমরা চায় না।পরিশেষে আল্লাহ সকলের মঙ্গল করোক,সকলের জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।