সম্মানিত মাহফিল আয়োজক দায়িত্বশীলবৃন্দ

FB_IMG_1571249788368

আসসালামু আলাইকুম।
আমি আজকে অতীব জরুরী একটা বিষয়ে আপনাদের খেদমতে কিছু বিষয় আরজ করতে চাচ্ছি।কেও কিছু মনে করবেন না।আমি ক্ষুদ্র একজন মুসলিম হিসেবে আমি সহ সবার সংশোধনের লক্ষ্যে লেখাটা লেখছি ।শুধুমাত্র দ্বীনের স্বার্থে আমার আজকের এই লেখা।কাওকে ছোট বা হেয় প্রতিপন্ন করা আমার মুল উদ্দেশ্য নয়। সংস্কারের জন্যই আমার আজকের আবেদন।
ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক মানের সম্মানিত মুফাসসিরীনদের কে দাওয়াত না দিয়ে শুধু মাত্র মাহফিলে লোক সমাগম ও প্রচুর আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির জন্য আলেমদের অনুমতি ছাড়া পোষ্টারে তাঁদের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে এবং মাহফিলের দিন উপস্থিত ধর্মপ্রিয় মুসলমান/ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের কে ধোঁকা দেয়া হয়। আরো বলা হয় আল্লামাকে দাওয়াত করছিলাম তিনি অসুস্থ বা পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে আসতে পারেনি ইত্যাদি।
আমরা কাকে,কেন এ ধোঁকা দিচ্ছি??? বিবেকের কাছে কোনদিন প্রশ্ন করছি কি???
মাহফিল কি লোক সমাগমের জন্য নাকি পথ হারা মানব সমাজকে সঠিক দ্বীনের পথে,হেদায়াতের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য আয়োজন করা হয়???
যদি লোক সমাগম উদ্দেশ্য হয় তাহলে আল্লাহর ওয়াস্তে মাহফিলের আয়োজন না করাই ভালো।
কারণ কোন এলাকায় মাহফিল না করলে আল্লাহ কারো কাছ থেকে এটার জন্য জবাবদিহি নেবেন না বরং করতে পারলে ইহকালে শান্তি ও পরকালে মুক্তির পথের দিশা পাওয়া যেতে পারে কিন্তু মাহফিলের নামে কোন ধর্মপ্রিয় মুসলমান বা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীকে ধোঁকা দেয়া কত বড় মাফের অপরাধ আপনারা আমার চেয়ে বেশি অবগত আছেন।
আরো একটা বিষয় ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে – মাহফিল আয়োজকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে নিজেরা নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য মাহফিলে বিরেধীদের সাথে গোপন সম্পর্ক করে মাহফিলে ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা জারী করাই এটা মোটেও বাঞ্ছনীয় নয়।এটা ইসলামের সাথে একধরনের মোনাফেকী।এটা বর্জন করা খুবই জরুরী।
মাহফিল হচ্ছে একটি উন্মুক্ত লোক সমাগমের মাধ্যমে দ্বীনের সঠিক ধারণা দেয়ার অন্যতম মাধ্যম তাই মাহফিলের পূর্বেই প্রশাসন থেকে অনুমতি /প্রশাসনকে অবহিত করা কোন দোষের নয়,কারণ মাহফিল যারা আয়োজন করেন তারা সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজি,জঙ্গী,মানব ও মাদক দ্রব্য পাচারের মতো রাষ্ট্র বা সমাজ বিরোধী কাজের সাথে প্রত্যক্ষ বা পটোক্ষভাবে জড়িত নয় বরং তাঁরা এ জাতীয় অপরাধী কার্যক্রমকে ঘৃণা করে।মাহফিলে ইসলামের সঠিক ধারণা দেয়ার পাশাপাশি সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি, ইভটিজিং,নারীও শিশু নির্যাতন,মানব ও মাদক দ্রব্য পাচার করলে ইহকালে কি শাস্তি ও পরকালে কি শাস্তি পাবে সে বিষয়ে কোরআন হাদীসের আলোকে আলোচনা করা হয়।এখানে রাষ্ট্রদ্রোহি কোন আলোচনা হয়না বরং মাহফিলে দেশ প্রেমে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
তাই প্রশাসন মাহফিলের অনুমতি দিলে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয় বরং এতে প্রশাসন বেশি লাভবান হয়।
মাহফিলে সম্মানীতা মহিলা শ্রোতাদের পর্দা সহকারে বসার পৃথক ব্যবস্থার পাশাপাশি আগত সম্মানিত সাংবাদিক,প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ বসার সাধ্য মতো আলাদা ব্যবস্থা করা খুবই জরুরী।প্রয়োজনে আগত ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ভাইদেরকে পৃথকভাবে সম্মানের সাথে বসিয়ে মাহফিল শুনার ব্যবস্থা করতে হবে কারণ কোরআন সকল মানব গোষ্ঠীর একমাত্র হেদায়েতের মাধ্যম এটা কোন নিদৃষ্ট জাতীর জন্য নাযিল হয়নি। তাই কোরআনের মাহফিলও সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে।
আল্লাহ চাইলে আপনার এই মাহফিল অনেক মানুষের হেদায়াতের পাথেয় হতে পারে।এটাই হউক মাহফিল আয়োজকদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
আল্লাহ সবার প্রচেষ্টাকে কবুল করুক,আমীন।
মা-আসসালাম।

, বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।