চকরিয়া উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার নেই ৫৯ মৌজায় জমি বেচাকেনায় ভোগান্তি প্রতিমাসে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি

চকরিয়া অফিস:
চকরিয়ায় সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার জনসাধারণ। একবছর আগে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার এসএম শামসুজ্জামান অন্যত্র বদলি হয়ে গেলে পদটি শূন্য হয়। এতে জমি বেচাকেনা বা দলিল নিবন্ধন করার ক্ষেত্রে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন জমি মালিক ও ক্রেতা সাধারণ। পাশাপাশি জমি বেচাকেনা কার্যক্রম ব্যহৃত হবার কারণে সরকারও প্রতিমাসে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
চকরিয়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার এসএম শামসুজ্জামান বদলি হওয়ার পর থেকে উল্লেখিত পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন রামু উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মাহাবুবর রহমান। কিন্তু তিনি চকরিয়ায় অফিস করছেন সপ্তাহে দুই দিন রোববার ও সোম। স্থানীয় লোকজন জানান, সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসের স্থলে তিন দিন দলিল নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জমি বেচাকেনায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট লোকজনকে।
সূত্র জানায়, চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে ৪৫টি ও একটি পৌরসভায় ১৪টিসহ মোট ৫৯টি মৌজা রয়েছে। এসব মৌজায় ব্যক্তিমালিকানাধীন অন্তত লক্ষাধিক একর আবাদি-অনাবাদি জমি রয়েছে। দুইশতক আগে খেকে উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির কারনে বিভিন্ন এলাকায় বেড়ে চলছে জমি বেচাকেনা। এতে জমির দলিল সম্পাদনের চাপ বাড়ছে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে।
চকরিয়া উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সাইফুল আজম বলেন, একজন নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় প্রায় এবছর ধরে উপজেলার লোকজন প্রয়োজনের সময় জমি বেচাকেনা করতে পারছেন না। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষের সমস্যা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে চকরিয়া উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন রামু উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মাহাবুবর রহমান। কিন্তু তিনি চকরিয়া আসেন সপ্তাহে দুই দিন রোববার ও সোম। সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসের জায়গায় তিন দিন দলিল নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জমি বেচাকেনায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট লোকজনকে।
দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সাইফুল আজম আরো বলেন, সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে দুইদিন অফিস কার্যক্রম চলে। আমাদের জানা মতে, নিয়মিত সাব রেজিস্ট্রার থাকাকালে আগে খোলার দিনে অন্তত ৪০টি দলিল সম্পাদন হতো। সেই হিসেবে পাঁচদিনে দুইশত থেকে ২২০টি দলিল সম্পাদন হবার কথা। কিন্তু এখন দুইদিনে হচ্ছে ১১০ থেকে ১৩০টি দলিল। এ অবস্থার ফলে জমি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়পক্ষের লোকজন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন জমি রেজিস্ট্রি কাজে ঢাকা চট্টগ্রাম কিংবা বিদেশ থেকে আগত লোকজন।
জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা রেজিস্ট্রার রায়হান মন্ডল বলেন, ‘চকরিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। কর্মকর্তা-সংকটের কারণে আমরা রামু সাব-রেজিস্ট্রার মাহাবুবর রহমানকে চকরিয়ায় দুই দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছি।
তিনি বলেন, চকরিয়া ও মহেশখালী উপজেলায় সাব রেজিস্ট্রার পদটি শুন্য আছে। তারপরও গুরুত্বপুর্ণ উপজেলা হিসেবে চকরিয়ায় একজন নিয়মিত সাব রেজিস্ট্রার পোস্টিং দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রাণালয়ে লিখিতভাবে এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। আশাকরি মন্ত্রানালয় জনদুর্ভোগ লাগবে এখানে একজন নতুন সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেবে।
জেলা সাব রেজিস্ট্রার আরও বলেন, চকরিয়ায় সাব রেজিস্ট্রার পদটি শুন্য থাকার বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ জাফর আলমকেও অবহিত করা হয়েছে। তিনি চাইলে মন্ত্রাণালয়ে একটু তদবির করলে সমস্যাটি সমাধান হয়ে যাবে।

বিভাগের সংবাদ।

নিউজ ডেস্ক, চকরিয়া২৪।