চকরিয়া জমজম হাসপাতালের ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এমডি

zamza-300x225
এম জাহেদ চৌধুরী, চকরিয়া ::

জামায়াতী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত চকরিয়ার জমজম হাসপাতালের পক্ষে আরো একটি নালিশী মামলা দায়ের করেছেন মো. গোলাম কবির। চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৯ জন আসামির মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মাহবুব কামাল চৌধুরী, নাক কান গলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. এসএম শওকত ওসমান, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন ও ইঞ্জিনিয়ার নূর হোসেনকে আসামি করায় মামলাটি নিয়ে তোলপাড় চলছে পুরো কক্সবাজারে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মোহাম্মদ রিদুয়ানুল হক, জিএএম আশেক উল্লাহ, মো. আবুল হাশেম, শামশুদ্দিন আহমেদ, মো. নুরুল ইসলাম।
মামলায় বাদি দাবি করেন যে, তাকে হয়রানি করার লক্ষ্যে শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে দলাদলি ও বিভক্তি সৃষ্টি করে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাবেক পরিচালনা পরিষদের সদস্য পরিচয় দিয়ে পরস্পর যোগসাজসে জমজম হাসপাতালের একাউন্ট থেকে লাখ লাখ টাকা লুটপাটের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন।
নালিশী মামলার এজাহারে দাবি করা হয়, ডা. এসএম শওকত ওসমান ১৬ লাখ ৬৪ হাজার ৪১৫ টাকা, ডা. মুহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৮৪৯ টাকা, মোহাম্মদ রিদুয়ানুল হক ১ লাখ ১০ হাজার ৬৬৭ টাকা, ডা. মাহবুব কামাল চৌধুরী ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৬৬৬ টাকা, জিএএম আশেক উল্লাহ ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, মো. আবুল হাশেম ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা, শামশুদ্দিন আহমদ ৩৫ হাজার ৬৬৭ টাকা, মো. নুরুল ইসলাম ৩৫ হাজার ৬৬৭ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মামলায় ৯ নং আসামি ইঞ্জিনিয়ার নুর হোসেন কি করেছেন তা উল্লেখ করা হয়নি।
নালিশী মামলাটি তদন্তপূর্বক আগামী ২ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিল করতে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ডা. মুহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন বলেন, ওই হাসপাতালের শেয়ার হোল্ডার হলেও আমি অনৈতিকভাবে এক টাকাও কোন সময় নিইনি। গোলাম কবির নিজের অপকর্ম ঢাকতে এবং আমাদের সম্মান ক্ষুন্ন করতেই স্বনামধন্য দুই ডাক্তারসহ আমরা ৯ জনকে অভিযুক্ত করে নালিশী অভিযোগটি করা হয়েছে।
টাকা আত্মসাৎ মামলার ব্যাপারে মুঠোফোনে জানতে চাইলে ডা. এসএম শওকত ওসমান বলেন, আমি চট্টগ্রামে অবস্থান করে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রয়েছি। চকরিয়ায়ও যাই না। টাকা আত্মসাতের ব্যাপারটি অবান্তর ও সাজানো। মূলত গোলাম কবির ও রফিক ছিদ্দিকী দায়িত্বে থাকাকালে রফিক নিজেই ৬৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে শুনেছি। প্রথমে তাদের মধ্যে বিরোধ থাকলেও পরে দুইজন একজোট হওয়ায় আত্মসাৎ করা ৬৮ লাখ টাকা আমরা আত্মসাৎ করেছি মর্মে নয়জনের বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।
জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার নুর হোসেন বলেন, নালিশী মামলায় উত্থাপন করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো নাটক। প্রখ্যাত চিকিৎসক মাহবুব কামাল চৌধুরী ও শওকত ওসমানসহ অন্যান্যদের সম্মানহানি করতে হয়রানির উদ্দেশ্যে এই নালিশী মামলা। তদন্ত করলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জমজম হাসপাতালের এক শেয়ার হোল্ডার বলেন, এ হাসপাতালটি ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছেন ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, মরহুম মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালী কর্তৃক আদালতে দাখিল করা মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রাথমিক অভিযুক্ত জামায়াতের সাবেক এমপি এনামুল হক মঞ্জু, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিবির ক্যাডার গোলাম কবির ও চকরিয়া কলেজের সাবেক জিএস শিবির নেতা রিয়াজ মোহাম্মদ রফিক ছিদ্দিকী। এই তিনজনের নেতৃত্বে এখন চলছে হাসপাতালটি।
এদিকে প্রাইভেট হাসপাতাল জমজমের কর্তৃত্ব নিয়ে দু’পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন সতর্কাবস্থায় রয়েছে। অনাকাংখিত ঘটনার আশংকা করছেন অনেকেই। গত রবিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় জমজম হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় জমজম হাসপাতাল নিয়ে স্থানীয় জামায়াত কর্মীদের ভূমিকা রহস্যজনক দাবি করা হয়। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি চকরিয়া জমজম হাসপাতাল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের অভ্যন্তরের ঘটনা নিয়ে এলাকার সচেতন মহলের মধ্যে নানা শংকা বিরাজ করছে। এমনকি হাসপাতালটি নিয়ে নাশকাতমূলক ঘটনাও জামায়াতীরা ঘটিয়ে উল্টো দোষারোপ করতে পারে। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালটি ঘিরে মূলত জামায়াত–শিবির চক্র একটি পরিকল্পিত ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করছে। এসময় সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, তিনি জমজম হাসপাতালের বিষয়টি নিয়ে ওয়াকিবহাল রয়েছেন।

, বিভাগের সংবাদ।